নারায়ণগঞ্জের বিদ্যালয়ে শিক্ষককে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনি, পুলিশ আটক
নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন সরকারকে আটক করে থানায় নিয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় প্রলোভন ও চাপ প্রয়োগ করে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ ওঠে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সম্প্রতি সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনায় আসে। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে মারধর করে এবং তার শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করে।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে থানায় নিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জ জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, "পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে এসেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুলিশের তদন্ত দল ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাহিমা আক্তার জানান, তিনি স্কুলে এসে শিক্ষার্থীদের কাছে ঘটনাটি জানতে পারেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, "বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য
অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন সরকার দাবি করেন, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা আদায় করেছে। তিনি বলেন, "সোমবারও টাকা চায়। না দেওয়ায় আমাকে পুলিশে দিয়েছে।" তবে পুলিশ এই দাবির সত্যতা যাচাই করছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রভাব
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই দাবি করেছেন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে প্রশমিত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাকে আদালতে হাজির করা হবে। এই ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি রাখে।
