রমজানে স্কুল বন্ধ নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত
আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত পবিত্র রমজান উপলক্ষে সরকারি–বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় আগামী ৮ মার্চের পরিবর্তে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রাখতে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন। আজ সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এই আদেশ দেন, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আবেদনের শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত হয়েছে।
আদেশের বিস্তারিত বিবরণ
আদেশে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে লিভ টু আপিল না করা পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেওয়া হলো। এর ফলে, বিদ্যালয়গুলো আগামী ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে, অর্থাৎ পুরো রমজান মাস নয়, বরং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে ছুটি কার্যকর হবে। গতকাল রোববার হাইকোর্ট এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানিতে রুলসহ আদেশ দিয়েছিলেন, যাতে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ ছিল।
আবেদন ও শুনানি প্রক্রিয়া
শিক্ষা মন্ত্রণালয় হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে, যা আজ চেম্বার আদালতে ওঠে। অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন। অনীক আর হক প্রথম আলোকে জানান, চেম্বার আদালতের সিদ্ধান্তে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হয়েছে, ফলে বিদ্যালয় বন্ধের তারিখ পরিবর্তন হবে না।
রিট আবেদনের পটভূমি
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডল গত ২০ জানুয়ারি রিট আবেদনটি করেছিলেন, যার যুক্তি ছিল মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ের রমজানের ছুটি দুই রকম হওয়া সংবিধানবিরোধী। বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান এবং সংবিধানের ২ক অনুযায়ী ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ হওয়ায়, স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার প্রথা রয়েছে। আবেদনকারীর মতে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত সংবিধান সমর্থন করে না।
ছুটির তালিকা ও প্রভাব
২০২৬ সালের মাদ্রাসার ছুটির খসড়া তালিকায় পবিত্র রমজান, শহীদ দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস, লাইলাতুল কদর, জুমাতুলবিদা ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটির কথা বলা আছে। অন্যদিকে, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটির উল্লেখ রয়েছে। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হওয়ায়, এখন বিদ্যালয়গুলো এই নির্ধারিত সময়েই বন্ধ থাকবে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য স্পষ্টতা এনেছে।
