শর্তসাপেক্ষে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর
শর্তসাপেক্ষে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সেশন শেষে ব্রিফিং করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না। তবে তাদের নিয়োগ শর্তসাপেক্ষে কার্যকর হবে।

শিক্ষায় আনন্দমুখী পরিবেশ

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে জিপিএ-কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা থেকে বের করে এনে আনন্দমুখী ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার। জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে উঠে এসেছে শিক্ষার্থীরা শুধু নম্বর নয়, চায় আনন্দঘন শেখার পরিবেশ। এ প্রেক্ষাপটে ‘লার্নিং উইথ জয়’ কার্যক্রম, মিড-ডে মিল, সহপাঠ্য কার্যক্রম জোরদারসহ একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

শিক্ষক নিয়োগের শর্ত

যোগদানের পর শিক্ষকদের পিটিআইতে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সেখানে কেউ ব্যর্থ হলে তিনি শিক্ষক হিসাবে বহাল থাকতে পারবেন না। এছাড়া সরকারি বিধি অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর টানা দুই বছর সন্তোষজনকভাবে দায়িত্ব পালন করলে তবেই তাদের স্থায়ী করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষক সংকট ও পরিকল্পনা

শিক্ষা খাতে শিক্ষক সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ মামলা জটিলতায় আটকে আছে। পাশাপাশি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অবকাঠামো উন্নয়ন

মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খেলার মাঠ ও পরীক্ষা হলের সংকট নিরসনে প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস এক্সামিনেশন হল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে ‘লার্নিং উইথ জয়’ কার্যক্রম, মিড-ডে মিল, স্কুল ড্রেস ও সহপাঠ্য কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। একীভূত কারিকুলাম বাস্তবায়ন, চা-বাগান এলাকায় নতুন বিদ্যালয় স্থাপন এবং দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী শিশুদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তাদের ডিগ্রির সমমান নির্ধারণে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। প্রয়োজনে কারিগরি শিক্ষার সংযুক্তিও বিবেচনা করা হবে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন, মাউশির মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।