গাইবান্ধার দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিল
গাইবান্ধার দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিল

গাইবান্ধার দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিল

অবশেষে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হয়েছে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয় ও গৃধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার মধ্যরাতে ইন্টারনেট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে দুই বিদ্যালয়ের মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে তা পৌঁছে দেওয়া হলে, তারা মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

পরীক্ষার প্রথম দিনের ঘটনা

মঙ্গলবার এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৪ জন শিক্ষার্থী কোমরপুর চৌমাথা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নেয়। অন্যদিকে, গৃধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জন শিক্ষার্থী পলাশবাড়ী উপজেলার এসএম মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়।

এর আগে, সোমবার রাতে প্রবেশপত্র না পেয়ে গৃধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তাদের এই প্রতিবাদে স্থানীয় প্রশাসন সচেতন হয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ

পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাকিবুল হাসান জানান, 'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদের উদ্যোগে রাতেই শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র সরবরাহ করা হয়। ফলে প্রথম দিনের পরীক্ষায় কোনও শিক্ষার্থী বাদ পড়েনি।'

প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা স্বস্তি প্রকাশ করে। তারা জানায়, রাতেই প্রবেশপত্র পাওয়ায় তারা সকালে কেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পেরেছে। না হলে তাদের বড় ধরনের ক্ষতি হতো এবং একাডেমিক বছর নষ্ট হতে পারত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইউএনওর বক্তব্য ও তদারকি

এ বিষয়ে ইউএনও শেখ জাবের আহমেদ বলেন, 'বিষয়টি জানার পরপরই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বোর্ড থেকে অনলাইনে প্রবেশপত্র উন্মুক্ত করা হলে তা ডাউনলোড করে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তদারকি করা হয়।'

তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'প্রবেশপত্র বিতরণে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।' এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রবেশপত্র না পাওয়ার কারণে তারা উদ্বিগ্ন ছিল, কিন্তু প্রশাসনের দ্রুত সাড়া দেওয়ায় তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে। তারা আশা করে, ভবিষ্যতে এমন জটিলতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও সতর্কতা অবলম্বন করবে।

এই ঘটনাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশপত্র বিতরণ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব ও সময়মতো পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। গাইবান্ধার এই দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার প্রথম দিনটি সফলভাবে শেষ হয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকারই প্রতিফলন।