ভোলার চরফ্যাশনে ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা শেষে এই ঘটনা ঘটে। প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ার অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা।
হামলার ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি
প্রত্যক্ষদর্শী সোহেব হোসেন জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজ গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। পরে উত্তর ও পশ্চিম পাশের দুটি গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা। এ সময় শিক্ষকরা আতঙ্কিত হয়ে একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। পরীক্ষার্থীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের তাড়া করে।
কলেজের গেট, সাইনবোর্ড, দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। হামলায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হুমায়ুন শিকদার কবির ও ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম রাসেলসহ ১৫ জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রের বিবরণ
ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, ওই কেন্দ্রে সরকারি চরফ্যাশন কলেজের ৭৮৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘একদিকে প্রশ্নপত্র কিছুটা কঠিন হয়েছে, অন্যদিকে কক্ষ পরিদর্শকরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার শুরুর পর থেকেই কক্ষ পরিদর্শকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে। পরীক্ষা শেষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে, গেট ভেঙে ফেলে এবং লোহার পাইপ নিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা কক্ষ ও শিক্ষক কক্ষে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে ৪০০-৫০০ শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা ছিল।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
পরীক্ষার্থীরা জানায়, প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ায় কমন পড়েনি। অপরদিকে হলের কক্ষ পরিদর্শকরা রূঢ় আচরণ করেন, এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা দাবি করেন, অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ায় হামলা চালানো হয়েছে বলে অধ্যক্ষের বক্তব্য ভিত্তিহীন।
প্রশাসনের ব্যবস্থা
চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ জানান, তিনি থানা ওসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরীক্ষার উত্তরপত্র পোস্ট অফিসে জমা দেয়। ওসি জানান, পুলিশ টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে। পরীক্ষা কমিটি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এসে প্রশাসনের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষার্থীদের সরে যেতে বলেন।



