মাত্র দুই শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে ময়মনসিংহের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
মাত্র দুই শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মাত্র দুই শিক্ষার্থী নিয়ে টিকে আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার টাংগাব ইউনিয়নে অবস্থিত বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এক কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনের চালা ঘরে মাত্র দুই জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আশপাশের দুই বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে এই বিদ্যালয় ছাড়া আর কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকলেও শিক্ষার্থী স্বল্পতা ও অবকাঠামোগত সংকটে বিদ্যালয়টি বিলুপ্তির পথে।

আট বছর ধরে পরিত্যক্ত মূল ভবন

জানা গেছে, প্রায় আট বছর ধরে বিদ্যালয়টির মূল ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরাদ্দে মূল ভবনের পাশে একটি অফিসকক্ষ ও দুইটি শ্রেণিকক্ষবিশিষ্ট একটি টিনের চালাঘর নির্মাণ করা হয়। তবে বর্তমানে একটি কক্ষ গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অফিসকক্ষ ও একটি শ্রেণিকক্ষে মাল বোঝাই করে রেখেছে, ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই দুইটি কক্ষ ব্যবহার করতে পারছে না।

শিক্ষক স্বল্পতা ও অবকাঠামোগত সংকট

বিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষকের সংখ্যা ছয় জন থাকলেও বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র দুই জন। শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, 'বিদ্যালয়ে একটি মাত্র শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। টিনের চালাঘর হওয়ায় গরমের দিন প্রচণ্ড গরম লাগে। ফ্যানগুলো চুরি হয়ে গেছে এবং মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ের বেঞ্চগুলিও চুরি হয়ে যায়। একজন শিক্ষক ক্লাস করালে অন্যজনকে পাশের বাজারের চা-স্টলে গিয়ে বসে থাকতে হয়।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুলতানা রাজিয়া জানান, বছরের পর বছর ধরে ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থী সংখ্যা তলানিতে

বিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষার্থীর দুই জনই প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। প্রাক্প্রাথমিক, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ কিংবা পঞ্চম শ্রেণিতে আর কোনো শিক্ষার্থী নেই। শিক্ষার্থী নাজিফার মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'বিদ্যালয়ে এই দুই জন ব্যতীত আর কোনো শিক্ষার্থী নেই। আমার মেয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চায় না, তাকে জোর করে আনতে হয়।'

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নেই তা তিনি অবগত আছেন। সময়ের অভাবে পরিদর্শন করতে পারছেন না, তবে শিক্ষকদের বলা হয়েছে শিক্ষার্থী ফিরিয়ে আনতে, অন্যথায় বিদ্যালয়টি বিলুপ্ত করে দেওয়া হতে পারে।