ভোলার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, তদন্তেও নিষ্ক্রিয়তা
ভোলার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্ত নিষ্ক্রিয়

ভোলার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, তদন্তেও নিষ্ক্রিয়তা

ভোলার লালমোহন উপজেলার মধ্য চরটিটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সেতারা বেগমের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলা, অশালীন আচরণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, চাঁদা দাবি, অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ

ওই বিদ্যালয়ের পাঁচ জন সহকারী শিক্ষক—মো. নজরুল ইসলাম, কামরুন নাহার সুরমা, ফাতেমা বেগম, মিল্লাত হোসেন ও মো. মাসউদ—গত ৩ আগস্ট ২০২৫ সালে প্রধান শিক্ষিকা সেতারা বেগমের বিরুদ্ধে মোট ৯টি অভিযোগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট দাখিল করেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন
  • চাঁদা দাবি এবং সহকারী শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা
  • এক সহকারী শিক্ষিকাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে তার তিন মাসের গর্ভনষ্ট করার ঘটনা
  • চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া
  • নিয়ম ভঙ্গ করে পূর্বের বিদ্যালয় থেকে বর্তমান বিদ্যালয়ে যোগদান

এছাড়াও, প্রধান শিক্ষিকা নিজ বাড়ির দরজায় বিদ্যালয় অবস্থিত হওয়ায় তিনি গড়ে মাত্র এক ঘণ্টা বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জমি দখল ও আর্থিক অনিয়ম

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষিকা সেতারা বেগম বিদ্যালয়ের নামে থাকা জমির অর্ধেক পরিবারকে দিয়ে দখল করে নিয়েছেন এবং বাড়ির বাউন্ডারি ওয়াল তৈরি করেছেন। এতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ অর্ধেক হয়ে গেছে। এমনকি বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের স্থানও এখন বিদ্যালয়ের বাউন্ডারির বাইরে চলে গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আর্থিক অনিয়মের দিকেও আঙুল তুলেছেন সহকারী শিক্ষকরা। তারা জানান, স্কুলের পিয়নের কাছ থেকে চাকরি নবায়নের জন্য এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষিকা। এছাড়া স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা অফিসের নাম করে সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দকৃত টাকা কোথায় খরচ হয়েছে তা-ও সহকারী শিক্ষকরা জানেন না। বিদ্যালয়ে স্লিপ ও মেইনটেনেন্সের কোনো কাজ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে নিষ্ক্রিয়তা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বোরহানউদ্দিনের সহকারী শিক্ষা অফিসার হিরামন বৈধ্য তদন্তে এসে সকলের স্বাক্ষর নিলেও তদন্তের কোনো ফলাফল আসেনি। প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতেও দেখা যায়নি বলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ আলম জানান, প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে শিক্ষা কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ তুলে ধরে রেজুলেশন আকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর যেভাবে নির্দেশনা দেবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা সেতারা বেগমের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষকরা যেসব অভিযোগ করেছে, তার কোনো সত্যতা না পাওয়ায় কোনো ক্ষতি করতে পারেননি। বর্তমানে অসুস্থতার কারণে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হতে পারছেন না তিনি। তবে কষ্ট করে হলেও বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন। তার মতে, শিক্ষকরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চায়, তা না মানায় তারা বিভিন্ন অভিযোগ করছে।

এলাকাবাসী ও সহকারী শিক্ষকরা এখনও প্রশ্ন করছেন, এত অনিয়ম সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষিকার ক্ষমতার উৎস কোথায় এবং কেনইবা তাকে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।