প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫: অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী
২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে শতকরা সর্বোচ্চ ৪০ ভাগ শিক্ষার্থীই কেবল এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। অর্থাৎ, ইচ্ছা থাকলেও বাকি শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুযোগ সীমিত হয়ে থাকবে।
পরীক্ষার রুটিন ও প্রশ্নপত্রের কাঠামো
পরীক্ষার রুটিন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে, প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বিভাজন ইতিমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষায় মোট চারটি বিষয় থাকবে এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা নম্বর বিভাজন ও সময় বরাদ্দ রয়েছে।
বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজন ও প্রশ্নের ধরন
বাংলা বিষয়: পূর্ণমান ১০০, সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। প্রশ্নপত্রে কবিতা লিখন, শব্দার্থ, বাক্য গঠন, শূন্যস্থান পূরণ, বহুনির্বাচনি প্রশ্ন, বিপরীত শব্দ, সংক্ষিপ্ত ও বিস্তৃত উত্তর, মূলভাব লিখন, ভাষারীতি পরিবর্তন, অনুচ্ছেদ পড়ে প্রশ্ন তৈরিকরণ, যুক্তবর্ণ বিভাজন, এককথায় প্রকাশ, ফরম পূরণকরণ এবং রচনা লেখন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইংরেজি বিষয়: পূর্ণমান ১০০, সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। পাঠ্যবই ও পাঠ্যবই বহির্ভূত অংশ থেকে প্রশ্ন থাকবে। শব্দের অর্থ মিলকরণ, অর্থপূর্ণ বাক্য গঠন, সংক্ষিপ্ত উত্তর, শূন্যস্থান পূরণ, বহুনির্বাচনি প্রশ্ন, WH প্রশ্ন গঠন, বাক্য পুনর্বিন্যাস, বড় হাতের অক্ষর ও বিরামচিহ্ন ব্যবহার, ফরম পূরণ, ক্রিয়ার সঠিক রূপ ব্যবহার, ব্যক্তিগত চিঠি লেখা এবং সংক্ষিপ্ত রচনা লেখার প্রশ্ন থাকবে।
গণিত বিষয়: পূর্ণমান ১০০, সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। বহুনির্বাচনি প্রশ্ন, শূন্যস্থান পূরণ, সংক্ষিপ্ত উত্তর এবং বিভিন্ন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের প্রশ্ন থাকবে। চার প্রক্রিয়া, লসাগু ও গসাগু, ভগ্নাংশ, গড়, শতকরা, পরিমাপ, জ্যামিতি এবং উপাত্ত বিন্যস্তকরণ সম্পর্কিত সমস্যা অন্তর্ভুক্ত হবে।
প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়: পূর্ণমান ১০০ (প্রত্যেকে ৫০ করে), সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। উভয় বিষয়েই বহুনির্বাচনি প্রশ্ন, শূন্যস্থান পূরণ/সত্য-মিথ্যা নির্ণয়/মিলকরণ, সংক্ষিপ্ত উত্তর এবং বিস্তৃত উত্তর প্রশ্ন থাকবে।
প্রশ্নপত্রের বৈশিষ্ট্য
প্রশ্নপত্রে ডোমেইনভিত্তিক প্রশ্ন থাকবে, যার মধ্যে জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগমূলক এবং উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত হবে। কোনো প্রশ্নের জন্য বিকল্প উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা হবে এবং যোগ্য শিক্ষার্থীরা সরকারি বৃত্তি পাবে। তবে, অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা থাকায় অনেক শিক্ষার্থীই এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণগুলো আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেক শিক্ষাবিদ।
