রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের স্টোর রুমে আগুন ও ল্যাপটপসহ মালামাল চুরির ঘটনায় করা মামলায় অধিদফতরের গবেষণা কর্মকর্তা ও স্টোর ইনচার্জ মো. জিয়াদ আলী বিশ্বাসসহ ৩ জনকে ৪ দিন করে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া একই মামলায় পরিচ্ছন্ন কর্মী আসমাউল ইসলাম আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ডে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন— স্টোর কিপার (মাস্টার রোল) হুমায়ুন কবির খান ও ডাটা এন্টি অপারেটর শহিদ হোসাইন। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
রবিবার (৩ মে) আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিন জনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. রাজীব হোসেন। অপর আসামি পরিচ্ছন্নকর্মী আসমাউল ইসলাম স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন একই তদন্তকারী কর্মকর্তা।
তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মিরপুর-২ এর নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীকালে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১ মে অজ্ঞাতনামা পাঁচজন ব্যক্তি কৌশলে তালা ভেঙে স্টোর রুমে প্রবেশ করে। এ ঘটনায় স্টোরে থাকা ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ৪৫০টি ভালো অবস্থায়, ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, ২৯টি অধিক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ১৪০টি সম্পূর্ণ পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি ৮৩টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।



