প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি
শিক্ষক নিয়োগে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর কর্মসূচি

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও যোগদান করতে না পারা চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি জানিয়েছেন। ১৪ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের দাবি

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বেলা ৩টায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা বলেন, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। মেডিক্যালসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর ২ মাস পার হলেও যোগদানের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। দীর্ঘদিন নিয়োগপ্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় ১৪ হাজার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী এবং তাঁদের পরিবার বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক উদ্বেগের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

প্রার্থীদের হতাশা ও কর্মসূচির হুমকি

প্রার্থীরা আরও বলেন, আমরা প্রথমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এবং পরে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। কিন্তু আশানুরূপ কোনো প্রতি-উত্তর পাইনি। আগামী ১০ দিনের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। দেবব্রত সরকার নামের একজন চাকরিপ্রার্থী বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং আমরা হাজারো প্রার্থী মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ আমাদের নিয়োগ ও পদায়নের বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিয়োগপ্রক্রিয়ার পটভূমি

গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করে অধিদপ্তর।

এই অবস্থায় প্রার্থীরা অবিলম্বে সুপারিশপ্রাপ্তদের দ্রুত নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন এবং ১০ দিনের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এই অনিশ্চয়তা প্রাথমিক শিক্ষা খাতের উন্নয়নেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।