৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে উত্তীর্ণরা পিএসসিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে
৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া একাংশ পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)কে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই দাবি না মানা হলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন, এমনকি অনশন কর্মসূচিও হাতে নেওয়ার চিন্তা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আল্টিমেটামের ঘোষণা
সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা এই আল্টিমেটামের ঘোষণা দেন। আন্দোলনকারী সোহাগ নামে একজন বক্তব্য রাখেন এবং বলেন, "আমরা আজকে পিএসসিকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। পিএসসি যদি এর মধ্যে কোনও পদক্ষেপ না নেয়, সেক্ষেত্রে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। সেক্ষেত্রে আমরা অনশনে বসার মতো কর্মসূচিও হাতে নেওয়ার চিন্তা করছি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আমরা চাচ্ছি, একটা নতুন বাংলাদেশ হচ্ছে, নতুন করে সব কার্যক্রম হবে। আমাদের জন্য কোনও জনদুর্ভোগ তৈরি হোক তা আমরা চাচ্ছি না। আমরা রাস্তায় নামতে চাই না। তিন লাখ প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বাছাই হওয়া মাত্র ১২ হাজার ৮৮৫ জন আমরা। আমাদের জায়গা পড়ার টেবিলে, আন্দোলনের মাঠে নয়।"
পরীক্ষার্থীদের প্রধান দাবি ও যুক্তি
আন্দোলনকারীদের ভাষ্যমতে, ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার জন্য মাত্র ৫৮ দিনের মধ্যে ৯০০ থেকে ১২০০ নম্বরের বিশাল সিলেবাস শেষ করা বাস্তবসম্মত নয়। তারা দাবি করেন যে, এই সংক্ষিপ্ত সময়ে প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং অসম্ভব প্রায়।
এর আগে, গতকাল রবিবার পর্যাপ্ত সময় পাননি বলে দাবি করে ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা দুই মাস পিছিয়ে জুলাই মাসে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া পরীক্ষার্থীদের একাংশ এই দাবি তুলে ধরেন এবং এখন তা জোরালোভাবে উপস্থাপন করছেন।
আন্দোলনের সম্ভাব্য পরিণতি
আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পিএসসি যদি তাদের দাবি মেনে না নেয়, তাহলে তারা নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারেন:
- কঠোর আন্দোলন শুরু করা, যা সম্ভবত রাস্তায় বিক্ষোভ ও সমাবেশের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।
- অনশন কর্মসূচি হাতে নেওয়া, যা তাদের চূড়ান্ত প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
- আরও ব্যাপক প্রচারণা চালানো, যাতে তাদের দাবি জনসমর্থন পায় এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এই পরিস্থিতিতে পিএসসির পদক্ষেপ এখন সকলের নজরে রয়েছে। পরীক্ষার্থীরা আশা করছেন যে, তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে লিখিত পরীক্ষার তারিখ পেছানো হবে, যাতে তারা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারেন।



