আশুগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শতভাগ পাসের লক্ষ্যে সমন্বিত মডেল টেস্ট শুরু
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন শুধু ভালো ফলাফল নয়, বরং শতভাগ পাসের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের জন্য সমন্বিত প্রশ্নে মডেল টেস্ট পরিচালনা করছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে অভিভাবকদের নিয়ে দফায় দফায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দক্ষ শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা তাদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করবে।
মডেল টেস্টের সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সমন্বিত মডেল টেস্ট ১১ মার্চ পর্যন্ত চলবে। সাতটি পরীক্ষার মধ্যে ইতিমধ্যে গণিত এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোর সময়সূচি নিম্নরূপ:
- ৫ মার্চ: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বিজ্ঞান
- ৮ মার্চ: পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি ও পৌরনীতি
- ৯ মার্চ: রসায়ন, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং ভূগোল ও পরিবেশ
- ১০ মার্চ: জীববিজ্ঞান, ব্যবসায় উদ্যোগ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা
- ১১ মার্চ: বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র
আশুগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫টি মাদ্রাসা এবং ৪টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৫৯১ জন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী এই মডেল টেস্টে অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে ছাত্র ৫৫৫ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ৩৬ জন।
শিক্ষক ও প্রশাসনের ভূমিকা
আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব ভূঁইয়া জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ টেস্ট পরীক্ষার আগে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশ করেছেন। পরীক্ষার পর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে দ্বিতীয় দফায় সভা করে বিশেষ ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সব প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করে সমন্বিত প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শত ব্যস্ততার মধ্যেও একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি হাজী আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর বলেন, বোর্ডে খাতা মূল্যায়ন করেন এমন অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রশ্ন নিয়ে সমন্বিত প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে। পরীক্ষার আগের দিন হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হয় এবং ১৮ মার্চ ফলাফল ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্বলতা চিহ্নিত করে বাকি সময়টুকুতে তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ থাকবে।
দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ যত্ন
ইউএনও রাফে মোহাম্মদ বলেন, টেস্ট ও প্রি–টেস্ট পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা যত্ন নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় নিয়মিত অভিভাবকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে, যাতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি না থাকে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা আশুগঞ্জের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে, যা তাদের এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনে সহায়ক হবে।
