শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনাকে 'অবিবেচনাপ্রসূত' বলল সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনাকে 'অবিবেচনাপ্রসূত' বলল ছাত্র ফ্রন্ট

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জ্বালানিসংকটের কারণ দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনাকে 'অবিবেচনাপ্রসূত ও শিক্ষাবিরোধী' আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটি সরকারকে এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার জোরালো দাবি জানিয়েছে। আজ বুধবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদের সই করা এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।

শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

বিবৃতিতে ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, 'শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।' তারা করোনা মহামারির সময় অনলাইন ক্লাস চালুর ফলে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। নেতাদের মতে, 'শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষমতা দুর্বল হয়েছে, মনোযোগ কমেছে এবং জ্ঞান অর্জনের গভীরতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।' সেই ব্যর্থ অভিজ্ঞতা থেকে কোনো শিক্ষা না নিয়ে আবার একই পথে হাঁটাকে তারা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও শিক্ষাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ডিজিটাল আসক্তি ও দ্বিচারিতার অভিযোগ

অনলাইন ক্লাসের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুঠোফোন ও ডিজিটাল যন্ত্রের ওপর অতিনির্ভরতা এবং আসক্তি ভয়াবহভাবে বেড়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা আরও তীব্র ভাষায় অভিযোগ করেছেন, 'সরকার একদিকে বলছে, জ্বালানির কোনো সংকট নেই, আবার জ্বালানিসংকটের কথা বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন ক্লাস চালুর কথা ভাবছে। এটা সম্পূর্ণ দ্বিচারিতা।' তারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মার্কেট, বিলাসবহুল আয়োজন, এসি, আলোকসজ্জা—সব চলমান থাকার পরেও শুধু স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার যুক্তি কী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারের পদক্ষেপ

আওয়ামী লীগ সরকারের জায়গায় বিএনপি সরকার এলেও শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আক্রমণ বন্ধ হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা। এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সশরীর ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, এবং অনলাইন শিক্ষার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের এই বিবৃতি শিক্ষানীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সূচনা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।