জ্বালানি সংকটে স্কুল-কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত
জ্বালানি সংকটে স্কুলে তিন দিন অনলাইন ক্লাস

জ্বালানি সংকটের মাঝে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নির্দেশনা: তিন দিন অনলাইন ক্লাস

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের সকল মহানগরের স্কুল ও কলেজে এখন থেকে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করা হবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার গতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যাতায়াত ও বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে সচিবালয়ে এক সমন্বয় সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত সভায় ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনো এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে যেকোনো সময় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নতুন ক্লাস রুটিনের বিস্তারিত

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে মোট ছয় দিন ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে তিন দিন শিক্ষার্থীরা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়ে অফলাইন পদ্ধতিতে ক্লাস করবে। বাকি তিন দিন তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন পদ্ধতিতে পাঠদান গ্রহণ করবে। ক্লাসের দিন নির্ধারণের জন্য জোড়-বিজোড় তারিখ বা রোল নম্বর পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
শিক্ষকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা:
  • অনলাইন ক্লাসের দিনগুলোতেও শিক্ষকদের সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সেখান থেকেই পাঠদান পরিচালনা করতে হবে।
  • বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ের ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো অবশ্যই অফলাইনে ল্যাবে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্য

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতেই সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে চলমান জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হওয়ায় যাতায়াত ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে তিন দিন অনলাইন মাধ্যমকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আপাতত এই ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে, যার ফলাফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও সমন্বয় করা হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমকে সমন্বিত করার চিন্তাভাবনা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় সম্পদের সদ্ব্যবহারে সহায়ক হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়া মনিটরিং করবে এবং প্রয়োজনে সংশোধনী আনবে।

এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে একটি মিশ্র পদ্ধতির প্রবর্তন হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতির অংশ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য এই পরিবর্তন সামঞ্জস্য করতে কিছু সময় লাগতে পারে, কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশাবাদী যে এটি সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় ও টেকসই করবে।