৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার

৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার

শিক্ষামন্ত্রী এ.এন.এম. এহসানুল হক মিলন রবিবার সংসদে জানিয়েছেন, সরকার আগামী দিনগুলোতে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে। সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর একটি পরিপূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য দেন।

সব ধর্মের অনুভূতির প্রতি সম্মান

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শুধু ইসলামী শিক্ষা নয়, বরং সব ধর্মের অনুভূতির প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের এই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

প্রাথমিক শিক্ষায় অতীত ও বর্তমানের গুরুত্ব

শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। “আমি খুবই গর্বিত যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন,” বলেন তিনি।

তিনি আরও যোগ করেন যে, নির্বাচিত বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও একই বিষয়ে জোর দিচ্ছেন। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ১৮০ দিনের একটি কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

নৈতিক শিক্ষার অবনতি ও সমাধান

মন্ত্রী বলেন, সমাজে নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবনতি বিভিন্ন ধরনের অসৎ কাজ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন যে, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সনদপত্র এবং কেরাত শিক্ষকদের স্বীকৃতি নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। তার মতে, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় কেরাত বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এই সমস্যার উদ্ভব হয়েছে

জটিলতা সমাধানের আশা

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সনদপত্র সংক্রান্ত জটিলতা শীঘ্রই সমাধান হবে এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষা বলতে আমরা শুধু ইসলামী শিক্ষা বোঝাই না। আমরা সব ধর্মের অনুভূতির গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।”

এই পদক্ষেপটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সরকারের এই পরিকল্পনা দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।