শিক্ষাক্রম কমিটি গঠনে জোর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
শিক্ষাক্রম কমিটি গঠনে জোর, মাদ্রাসা শিক্ষায় মতবিনিময়

শিক্ষাক্রম কমিটি গঠনে জোর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, চলতি মাসের মধ্যেই শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কমিটি গঠন ও সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শুরু করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। আজ রোববার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

শিক্ষাব্যবস্থার জটিলতা দূরীকরণের আহ্বান

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা বা 'রেড টেপ' দূর করতে হবে। কোর্স ও কারিকুলামকে আরও সহজ, সময়োপযোগী ও উৎপাদনশীল করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নিজ কাজ পর্যালোচনা করে উন্নয়নমূলক প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো প্রচলিত প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মতো নয়; এটি একটি মৌলিক ও জাতি গঠনের মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয় দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে এবং নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলে।

তিনি আরও যোগ করেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে, নতুন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নিয়ে আসতে হবে।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও সমাধান প্রস্তাব

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি শিক্ষা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক সমাধান প্রস্তাব আহ্বান করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের দায়িত্ব, শিক্ষকসংক্রান্ত সমস্যা, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিদ্যমান জটিলতা—এসব বিষয়ে একটি সুসংগঠিত 'সলিউশন লিস্ট' প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। এতে করে কার্যকর আলোচনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

উপস্থিত কর্মকর্তাদের তালিকা

মতবিনিময় সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাবিবুর রহমানসহ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর এই উদ্যোগকে শিক্ষা খাতের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সময়োপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও জটিলতা দূরীকরণের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে।