বেসরকারি মাদ্রাসায় নিয়োগে কঠোর নির্দেশনা, এমপিও বাতিলের হুমকি
মাদ্রাসায় নিয়োগে নতুন নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ

বেসরকারি মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোর জন্য নিয়োগ কার্যক্রমে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনটিআরসিএর আওতার বাইরে থাকা শূন্য পদগুলোতেও এখন থেকে কঠোর নিয়ম মেনে নিয়োগ দিতে হবে। নতুন জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬ অনুসরণ না করলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার এমপিও সুবিধা বাতিল করা হতে পারে।

নীতিমালা জারি ও বাস্তবায়নের সময়সীমা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ গত ১ ফেব্রুয়ারি ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে একটি নীতিমালা জারি করে। এই নীতিমালার আলোকে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এখন বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোকে দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এতদিন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) আওতার বাইরে থাকা শূন্য পদগুলোতে মাদ্রাসার নিয়োগ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি সরাসরি নিয়োগ দিয়ে আসছিল। তবে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই পদগুলোতেও এখন নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

কঠোর শাস্তির হুমকি

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন নির্দেশনায় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:

  • জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
  • নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পদে এমপিও সুবিধা দেওয়া হবে না।
  • এমপিও বাতিলের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। সরকার চায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি রোধ করে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হোক।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বেসরকারি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অনেকেই নতুন নির্দেশনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে। অন্যদিকে, অনেকেই স্বচ্ছতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আগামী দিনগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া মনিটরিং করতে বিশেষ টিম গঠন করতে পারে বলে জানা গেছে। এই নির্দেশনা দেশের হাজার হাজার বেসরকারি মাদ্রাসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বয়ে আনবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশা করছে, নতুন নীতিমালা মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।