জয়পুরহাটের মাদ্রাসায় বেত্রাঘাতে শিশু ছাত্র আহত, উত্তেজিত জনতা প্রধান শিক্ষককে মারধর
জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলায় একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ১০ বছরের এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। শিশুটির শরীরে বেতের আঘাতের দাগ দেখা গেছে, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে। উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন, পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আক্কেলপুর উপজেলার রামশালা মোড় এলাকায় রামশালা দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত নাহিদ হাসান ওই মাদ্রাসার হেফজখানা বিভাগের আবাসিক ছাত্র এবং উপজেলার জাফরপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের পুত্র। থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাহিদ প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।
বুধবার সকালে পড়া না পারায় মাদ্রাসার শিক্ষক আবু হুরাইরা নাহিদকে বেত দিয়ে মারধর করেন। বিকেলে নাহিদের পিতা মিজানুর রহমান নাশতা নিয়ে মাদ্রাসায় গেলে ছেলের শরীরে বেত্রাঘাতের দাগ দেখতে পান। নাহিদ তখন জানায়, সকালে পড়া না পারার কারণে শিক্ষক আবু হুরাইরা তাকে বেত্রাঘাত করেছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
উত্তেজিত জনতার প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষক আবু হুরাইরা পালিয়ে যান। আহত নাহিদকে রামশালা মোড়ে স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক উপস্থিত হলে ক্ষুব্ধ লোকজন তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং একপর্যায়ে মারধর শুরু করেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুককে উদ্ধার করে আক্কেলপুর থানায় নিয়ে যায়।
প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, 'ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে গেছেন। তবে তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগ সঠিক নয়। উত্তেজিত লোকজন আমাকে লাঞ্ছিত করেছেন।' মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান এ ঘটনায় হতবাক হয়ে বলেন, 'ছাত্রের শরীরের অবস্থা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা জানান, ছাত্রকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' এই ঘটনা শিশু নির্যাতন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে গভীরভাবে আলোড়িত করেছে।



