কারিগরি শিক্ষাকে বাজারমুখী করতে পিপিপি ও কারিকুলাম সংস্কারের তাগিদ
কারিগরি শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও বাজারমুখী করতে উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (৪ মার্চ) কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। শিক্ষা অধিদফতরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, “দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে আধুনিক, যুগোপযোগী এবং বাজারের চাহিদাভিত্তিক করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, এ লক্ষ্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ জোরদার করা, ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করা এবং কারিকুলাম ও সিলেবাস আধুনিকায়ন করতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন সূচক ও কেপিআই প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে, তবে বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হবে।
পিপিপি ও বাজারমুখী কারিকুলামের গুরুত্ব
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং বাজারমুখী কারিকুলাম প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যা দ্রুত দূর করতে হবে। তিনি বলেন, “প্রত্যেকে নিজ নিজ বিভাগ, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানে কী কী উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন তা নিজে নির্ধারণ করবেন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে সৃজনশীলতা ও উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ করবেন।” শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এখান থেকেই দেশের মানবসম্পদ তৈরি হয়।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তির ভূমিকা
বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি জনগণের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা একটি বড় দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যা সঠিকভাবে দক্ষতায় রূপান্তরিত করা গেলে এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। কারিগরি, ভোকেশনাল এবং পলিটেকনিকসহ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত তাত্ত্বিক শিক্ষার পরিবর্তে ব্যবহারিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণব্যবস্থার যথাযথ পর্যালোচনা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্পর্কে এহছানুল হক মিলন বলেন, “প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি শক্তিশালী মানবসম্পদসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষা প্রদান নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে এবং নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
