দুই ভোজনরসিক বন্ধুর মধ্যে একজনের ওজন ক্রমাগত বাড়ে, অন্যজন সব সময় হালকা-পাতলা থাকে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বিশেষ কোনো জিনের কারণে এ রকম হতে পারে। ১৭ জুলাই, ২০১৩ সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই ধারণার বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি পাওয়া গেছে।
গবেষণায় MRAP2 জিনের প্রভাব
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কিছু, হয়তো শ খানেক জিনের প্রভাবে ক্ষুধার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। গবেষকেরা দেখেছেন, মস্তিষ্কে যেসব জিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের প্রভাবিত করে MRAP2 নামে পরিচিত একটি জিন। ইঁদুরের ওপর চালানো গবেষণায় প্রথমে MRAP2 জিনটিকে অপসারণ করে দেখা যায় যে ওই ইঁদুরের ক্ষুধা ও ওজন অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করেছে।
মানব শিশুর জিন পরীক্ষা
এ থেকে গবেষকদের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়, একই কারণে বিভিন্নজনের ওজনের তারতম্য হয় কি না। তাঁরা খুব মোটা ৫০০ শিশুর জিন বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে দেখেছেন, তাদের মধ্যে অন্তত একজনের নির্দিষ্ট জিনটির বিকৃতি ঘটেছে এবং আরও তিনজনের ওই জিন ছিল অকার্যকর। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আরও পরীক্ষার পর হয়তো সিদ্ধান্তে আসা যাবে যে নির্দিষ্ট কোনো জিনের কারণে কেউ বেশি মোটা, কেউ বেশি চিকন হয় কি না।
ক্যালরি ও জিনগত নিয়ন্ত্রণ
সাধারণভাবে সবার ধারণা, শরীরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রতি ৩৫০০ ক্যালরি খাবার খেলে অন্তত আধা কেজি চর্বি শরীরে জমা হয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা মনে করেন, জিনগত নিয়ন্ত্রণের কারণে মানুষ শুধু মোটা বা পাতলাই হয় না, খাওয়ার পর অর্জিত শক্তির কত অংশ চর্বিতে রূপান্তরিত হবে এবং কত অংশ শরীর ব্যবহার করবে বা বের করে দেবে, সেটাও জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।



