১২ বছর বয়সী এইডেন ম্যাকমিলান: নিজের ঘরে বানালেন নিউক্লিয়ার ফিউশন রিয়েক্টর
১২ বছর বয়সী এইডেন ম্যাকমিলান: ঘরে বানালেন নিউক্লিয়ার ফিউশন রিয়েক্টর

১২ বছর বয়সে নিউক্লিয়ার ফিউশন রিয়েক্টর বানিয়ে তাক লাগালেন এইডেন ম্যাকমিলান

সাধারণত ১২ বছর বয়সের একটি শিশু কী করে? ভিডিও গেম খেলে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয় কিংবা স্কুলের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু আমেরিকার ডালাসের এইডেন ম্যাকমিলান একদম ভিন্ন। সপ্তম শ্রেণির এই স্কুলছাত্র এমন একটি অসাধারণ কাজ করে দেখিয়েছেন, যা শুনে বড় বড় বিজ্ঞানীদেরও চমকে দিতে পারে। সে তার নিজের খেলার ঘরেই তৈরি করে ফেলেছে একটি পূর্ণাঙ্গ নিউক্লিয়ার ফিউশন রিয়েক্টর!

সূর্যের শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া ঘরে বসে

নিউক্লিয়ার ফিউশন হলো সেই প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সূর্যের কেন্দ্রে বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়। এইডেন ঠিক সেই একই প্রক্রিয়া সফলভাবে ঘটাতে পেরেছে তার ছোট্ট ল্যাবে। এনবিসি নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইডেন এখন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ নাম লেখানোর অপেক্ষায় রয়েছে। তার লক্ষ্য হলো, ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হিসেবে নিউক্লিয়ার ফিউশন ঘটানোর স্বীকৃতি অর্জন করা।

আট বছর বয়স থেকেই শুরু হয়েছিল যাত্রা

এইডেন যখন মাত্র আট বছরের শিশু, তখন থেকেই তার মনে এই ধারণা বাসা বাঁধে। খেলনা বা কার্টুনের পরিবর্তে, তার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল নিউক্লিয়ার ফিজিকস। তবে সে হঠাৎ করেই কাজে নেমে পড়েনি। এইডেন জানত যে, এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাই টানা দুই বছর সে কেবল পড়াশোনা করেছে। ফিউশন কীভাবে কাজ করে, এর পেছনের তত্ত্ব কী, এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো কী কী—সবকিছু আগে নিজের মাথায় গেঁথে নিয়েছে। বই পড়ে ও ইন্টারনেট ঘেঁটে নিজেকে প্রস্তুত করার পরই সে যন্ত্রটি বানানোর কাজে হাত দেয়। এই পুরো প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে তার সময় লেগেছে দীর্ঘ চার বছর।

মায়ের অনুমতি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তা

ছেলের এমন অস্বাভাবিক শখ দেখে তার মা শুরুতে ভয় পেয়েছিলেন। ঘরের মধ্যে নিউক্লিয়ার রিয়েক্টর তৈরি করা—এটি মোটেও সহজ বিষয় নয়। মা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আগে আমাকে বোঝাও এর বিপদ কতটুকু। কী কী ভুল হতে পারে এবং তুমি কীভাবে সেই ঝুঁকিগুলো সামলাবে, তা নিশ্চিত করলেই কেবল কাজ করতে দেব।’ মায়ের অনুমতি পাওয়ার পর, এইডেন লঞ্চপ্যাড নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সাহায্য পায়। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ডালাসের এই অলাভজনক মেকারস্পেসটি মূলত বিজ্ঞান ও প্রকৌশল নিয়ে আগ্রহী ছাত্রদের সহায়তা করার জন্য তৈরি। তাদের তত্ত্বাবধানেই এইডেন তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করে।

ব্যর্থতা ও সাফল্যের গল্প

এই পথটি মোটেও সহজ ছিল না। এইডেন নিজেই স্বীকার করেছে যে, এই অভিজ্ঞতা যেমন রোমাঞ্চকর ছিল, তেমনি হতাশাজনকও। সে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেটিংসে ভুল হয়েছে, এবং আবার নতুন করে নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে হয়েছে। কিন্তু সে কখনো হাল ছাড়েনি। শেষ পর্যন্ত ধৈর্যের ফল মিলল। একদিন তার তৈরি যন্ত্রটি নিউট্রন কণা উৎপাদন করতে শুরু করল। বিজ্ঞানের ভাষায়, নিউট্রন নির্গমন মানেই হলো ফিউশন সফল হয়েছে। দীর্ঘ চার বছরের পরিশ্রম সফল হওয়ার পর এইডেন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। তার ভাষায়, ‘এটি ছিল এক দীর্ঘ যাত্রার সমাপ্তি।’

ভবিষ্যতের লক্ষ্য ও প্রভাব

সারা বিশ্ব এখন তার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু এইডেন বলছে, খ্যাতি বা রেকর্ডের চেয়ে তার কাছে বড় ছিল কৌতূহল। সে বিশ্বাস করে যে, পৃথিবীর ভবিষ্যতের শক্তির সংকট মেটাতে নিউক্লিয়ার ফিউশন একটি বড় ভূমিকা রাখবে। এই সাফল্য তার বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের ক্যারিয়ারের কেবল শুরু মাত্র। কে জানে, হয়তো এই এইডেন ম্যাকমিলানই একদিন আমাদের জ্বালানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান বের করে ফেলবে!