১২ বছর বয়সী এইডেন ম্যাকমিলান: ঘরে বানালেন পারমাণবিক চুল্লি, বিশ্বজুড়ে আলোচনা
১২ বছর বয়সী এইডেন মাইলান: ঘরে বানালেন পারমাণবিক চুল্লি

১২ বছর বয়সী এইডেন ম্যাকমিলান: ঘরে বানালেন পারমাণবিক চুল্লি, বিশ্বজুড়ে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের বাসিন্দা মাত্র ১২ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া এইডেন ম্যাকমিলান এমন একটি অবিশ্বাস্য কাজ করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে বড় বড় বিজ্ঞানীদের মধ্যে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সে নিজের বাড়ির খেলার ঘরে বানিয়ে ফেলেছে একটি পূর্ণাঙ্গ নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টর, যা পারমাণবিক চুল্লি হিসেবে পরিচিত।

প্রকল্পের শুরু এবং চ্যালেঞ্জ

মাত্র আট বছর বয়সে এইডেন ম্যাকমিলান তার এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের কাজ শুরু করে। প্রথম দুই বছর সে নিউক্লিয়ার ফিজিকস ও ফিউশন নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব এবং গবেষণাপত্র পড়ে জ্ঞান অর্জন করে। এরপর, সে তার মেশিনের প্রাথমিক রূপ তৈরি করা শুরু করে। পুরো প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে এইডেনের মোট চার বছর সময় লেগেছে, যার মধ্যে বারবার নানা বাধা এবং চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এইডেন বলেছে, "এই কাজ সব সময় সহজ ছিল না। এটি একই সঙ্গে তৃপ্তিদায়ক এবং হতাশাজনক অভিজ্ঞতা ছিল। প্রতিটি ধাপে আমাকে সমন্বয় এবং নিরাপত্তা যাচাই করতে হয়েছে, যা অনেক কঠিন ছিল।"

সহায়তা এবং পারিবারিক উদ্বেগ

এইডেনের এই অসাধারণ কাজে সহায়তা করেছে ‘লঞ্চপ্যাড’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ওয়েস্ট ডালাসে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প নিয়ে গবেষণায় সহায়তা করার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে। তবে, ছেলের কাজ নিয়ে এইডেনের মা শুরুতে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি জোর দিয়েছিলেন যে, কী কী ভুল হতে পারে এবং সেসব ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা ঠিকভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।

সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

চার বছর পরিশ্রমের পর এইডেন সফল হয় এবং তার যন্ত্রটি নিউট্রন উৎপাদন শুরু করে। এইডেন বলে, "মুহূর্তটি আমার জন্য দারুণ আবেগের ছিল। শেষ পর্যন্ত আমার দীর্ঘ পথচলা শেষ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।" এখন তার লক্ষ্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলা। সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে একটি নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টর তৈরির স্বীকৃতি পেতে সে কাজ করছে, যা তার অদম্য মনোবল এবং বিজ্ঞানের প্রতি গভীর আগ্রহের প্রতিফলন।

এইডেন ম্যাকমিলানের এই কীর্তি শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। তার এই অসাধারণ কাজ বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী এবং শিক্ষাবিদদের প্রশংসা কুড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও নতুন উদ্ভাবনের পথ প্রশস্ত করতে পারে।