মৌমাছির ভাইরাস শনাক্তকরণ ক্ষমতা গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য
মৌমাছির ভাইরাস শনাক্তকরণ ক্ষমতা: গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

পরিবেশে ক্ষতিকর রোগজীবাণু বা ভাইরাস শনাক্ত করতে পারা যেকোনো প্রাণীর টিকে থাকার জন্য বিশাল আশীর্বাদ। এটি প্রাণীকে অসুস্থতা বা মৃত্যু থেকে রক্ষা করে। মৌমাছি বা পিঁপড়ার মতো পতঙ্গদের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে এবং একটি সদস্য আক্রান্ত হওয়া মানে পুরো কলোনিতে মড়ক ছড়িয়ে পড়া। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধু সংগ্রহকারী মৌমাছি গন্ধ বা স্বাদের সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মতো পরোক্ষ সংকেতের মাধ্যমে তাদের চারপাশের দূষণ বুঝতে পারে।

গবেষণার পটভূমি

সম্প্রতি বায়োলজি লেটারস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, মৌমাছি কেবল খাবার থেকে ভাইরাস শনাক্তই করতে পারে না, ক্ষেত্রবিশেষে তারা ভাইরাসযুক্ত খাবার বেশি পছন্দ করে। মৌমাছি সরাসরি শরীরের বাইরে ভাইরাসের উপস্থিতি টের পায় কি না তার রহস্য উন্মোচনে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসডিএ–এআরএসের হানি বি ব্রিডিং জেনেটিকস অ্যান্ড ফিজিওলজি ল্যাবরেটরির গবেষক লিজ ওয়ালশ ও মাইক সিমোন–ফিনস্ট্রোম।

সিমোন–ফিনস্ট্রোম বলেন, 'আমাদের প্রশ্ন ছিল সহজ। মৌমাছি কি তাদের খাবারে ভাইরাস শনাক্ত করতে পারে, তা জানতে চেয়েছিলাম আমরা। প্রাথমিক ফলাফল বেশ চমকপ্রদ ছিল বলে আমরা পূর্ণাঙ্গ গবেষণার সিদ্ধান্ত নিই।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষণা পদ্ধতি

মৌমাছিদের এই আচরণ বোঝার জন্য গবেষণাগার ও সরাসরি মাঠপর্যায়ে দুই ধরনের পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষণাগারে মৌমাছিগুলোকে খাঁচায় আটকে দুটি বিকল্প দেওয়া হয়। একদিকে সাধারণ চিনির সিরাপ, অন্যদিকে কয়েক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত সিরাপ। যদি মৌমাছিরা উভয় সিরাপ সমানভাবে পান করত, তবে বোঝা যেত তারা পার্থক্য করতে পারছে না। কিন্তু যদি তারা সাধারণ সিরাপ বেশি পান করত, তবে বোঝা যেত তারা ভাইরাস এড়িয়ে চলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাঠপর্যায়ে গবেষকেরা খোলা জায়গায় বিভিন্ন মাত্রার ভাইরাসযুক্ত সিরাপ এবং সাধারণ পানি ও সিরাপ রাখেন। সেখানে তাঁরা মৌমাছির সংখ্যা গণনা করেন এবং দেখেন কোন ফিডারে তারা বেশিক্ষণ সময় কাটাচ্ছে।

চমকপ্রদ ফলাফল

গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞানীদের ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। দেখা গেছে, মৌমাছিরা ভাইরাস শনাক্ত করতে তো পারেই। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা সংক্রামিত খাবার এড়িয়ে চলার বদলে অনেক সময় সেটির প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হয়। সিমোন–ফিনস্ট্রোম বলেন, 'আমরা ভাবিনি তারা ভাইরাসের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তবে এই ফলাফল আমাদের নতুন গবেষণার পথ খুলে দিয়েছে।'

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মৌমাছিদের কর্মবিভাজন বা তাদের ভূমিকা অনুযায়ী এই আচরণের পার্থক্য ঘটে। তরুণ মৌমাছিরা লার্ভা ও রানীর দেখাশোনা করে। তারা গ্রীষ্মকালে ভাইরাসযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললেও শরতের সময় ভাইরাসযুক্ত খাবারের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখায়। যারা বাইরে থেকে নেক্টার বা পরাগ সংগ্রহ করে, তারা বিশেষ করে ডিফর্মড উইং ভাইরাসযুক্ত উচ্চ ঘনত্বের সিরাপের প্রতি নিয়মিতভাবে বেশি আকর্ষণ প্রদর্শন করেছে।

বিজ্ঞানীদের মতামত

বিজ্ঞানী ওয়ালশ বলেন, এর আগে মনে করা হতো মৌমাছিরা কেবল রোগের উপসর্গ দেখে আক্রান্ত সদস্যকে চিনতে পারে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তারা সরাসরি ভাইরাসই শনাক্ত করতে পারছে।

সূত্র: ফিজিস ডট অর্গ