অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ‘নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাগ্রো প্রকল্প’ নামে একটি জাল বিনিয়োগ স্কিমের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি সংগঠিত প্রতারক চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার ও অভিযান
গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. ওবায়দুল্লাহকে সিআইডির ঢাকা মেট্রো নর্থ ইউনিটের একটি দল ঢাকার সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকা থেকে আটক করে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতারক চক্রের কৌশল
তদন্তকারীদের মতে, চক্রটি উচ্চ সুদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীদের আকৃষ্ট করত। তারা বলত, ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে মাসিক ৩ হাজার টাকা মুনাফা পাওয়া যাবে এবং ৩৩ মাসের মধ্যে মূল টাকা দ্বিগুণ হবে। ভুক্তভোগীদের আরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও প্লট কেনার জন্য চাপ দেওয়া হতো।
প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল
সিআইডি সূত্র জানায়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, রশিদ ও সার্ভার ডেটার প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাজার হাজার ভুক্তভোগী এই জাল প্রকল্পে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। অভিযুক্ত ওবায়দুল্লাহ একাই ১৪টি ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ২.৫ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন বলে জানা গেছে।
পলাতক ও আইনি ব্যবস্থা
বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করার পর প্রতারকরা তাদের অফিস বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকার এবং কোনো বিনিয়োগের আগে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দিয়েছে।



