কিশোরগঞ্জে আরও ১ হাজার হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে গেছে
কিশোরগঞ্জে আরও ১ হাজার হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে গেছে

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জে নতুন করে আরও ১ হাজার হেক্টরের বেশি বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫০ হেক্টরে। এতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলার প্রায় ৩৬ হাজার কৃষক। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ক্ষতির পরিমাণ ও এলাকা

জানা গেছে, অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নিকলী, মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষকই পাকা ধান কাটতে পারছেন না। এছাড়া দিনভর রোদ না থাকায় (খলায়) রাখা ধান শুকাতে না পেরে ধানে চারা গজানো ও পচন ধরার ঝুঁকি বাড়ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরিকরছেন। বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ বছর কিশোরগঞ্জের ১৩ উপজেলায় বোরো ধান আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু হাওরাঞ্চলে চাষ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে। ইতিমধ্যে জেলায় প্রায় ৫৯ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবহাওয়া ও নদীর অবস্থা

নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আক্তার ফারুক গতকাল সোমবার জানান, গত ১২ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াউত্রা, ধনু-বৌলাই, কালনী, মগড়া ও ভৈরবে মেঘনা নদীর পানি বেড়ে ৩ দশমিক ২৬ মিটারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১০ সেন্টিমিটার বেশি। তবে সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষকদের বাঁধ কাটা

কিছু এলাকায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য কৃষকরা নিজেরাই বাঁধ কেটে দিচ্ছেন। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

টানা কয়েক দিন বৃষ্টির পর গত রবিবার দিনে হালকা রোদ উঠলেও, গভীর রাতে বৃষ্টি শুরু হয়। গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত নিকলীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। এমন অবস্থায় প্রায় পাঁচ দিন ধরে স্তূপ করে রাখা ধান রোদে শুকানো যায়নি। জমি থেকে কেটে আনা ভেজা ধান খলা বা বাড়ির উঠানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। একদিকে হাজার হাজার একর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, অন্যদিকে রোদ না থাকায় কেটে আনা ধান নষ্ট হচ্ছে।

কৃষকদের অনিশ্চয়তা

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ জমির ধান তলিয়ে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। রোদ না থাকায় খলায় রাখা ধান শুকাতে না পেরে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দিন দশেক আগেও বোরো ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন হাওর এলাকার কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ পানি বাড়ায় সেই চিত্র বদলে গেছে। নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দের বদলে এখন তারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।