ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বহুল আলোচিত ‘বালিশ কেলেঙ্কারি’র দুর্নীতির প্রতিবেদন আজ প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের কাছে submitted হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি বিভাগ ও সংস্থার ৩৮টি প্রতিবেদনের মধ্যে এই প্রতিবেদনও ছিল।
বালিশ কেলেঙ্কারির বিবরণ
২০১৯ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনের আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম কেনায় এই ‘বালিশ কেলেঙ্কারি’র ঘটনা প্রকাশ পায়। প্রতিটি বালিশ কেনা হয় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকায়। বালিশসহ অন্যান্য জিনিসপত্র কেনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ মো. সালেহ জানান, অডিটর ও কম্পট্রোলার জেনারেল মো. নুরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট প্রতিবেদন submitted করেন, যার মধ্যে বালিশ কেলেঙ্কারির তদন্ত প্রতিবেদনও ছিল। প্রতিবেদনে প্রতিটি বালিশের অবিশ্বাস্য মূল্য শুনে প্রধানমন্ত্রী সিএজিকে বলেন, এই দামি বালিশগুলো জাদুঘরে রাখা উচিত।
অডিট প্রতিবেদন জমা
বিকেলে অডিটর জেনারেল ও কম্পট্রোলার মো. নুরুল ইসলাম সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের কাছে ২০২১-২২ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদন submitted করেন। প্রকল্পের আওতায় আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি হয়েছে। প্রতিটি বালিশ কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং আবাসিক ভবনের বিছানায় প্রতিটি বালিশ তোলার খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। কাভারসহ কমফোর্টারের (কম্বলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও বাজারে এর দাম ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। একইভাবে বিদেশি বেডশিট কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়, যদিও বাজারে এর দাম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, অর্থ সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।



