বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর নিয়ে এই প্রতিবেদন। নিচে প্রশ্ন ও উত্তরগুলো তুলে ধরা হলো:
বৈশ্বিক উষ্ণতা ও নাতিশীতোষ্ণ এলাকার প্রভাব
প্রশ্ন: বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়লে নাতিশীতোষ্ণ এলাকায় কী প্রভাব পড়বে? উত্তর: বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়লে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও ধরনের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে পারে। নাতিশীতোষ্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাবে, যা খরা সৃষ্টি করবে, এমনকি মরুভূমিতেও পরিণত করতে পারে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও ধরন পরিবর্তন হলে নদ–নদী, খাল–বিলে পানির পরিমাণ ও প্রবাহ পরিবর্তিত হবে, যা অনেক ক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে আনবে।
শ্বেত রক্তকণিকা ও জীবাণু প্রতিরোধ
প্রশ্ন: শ্বেত রক্তকণিকা কীভাবে জীবাণু প্রতিহত করে? উত্তর: দেহে রোগজীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণুকে গ্রাস করে ধ্বংস করে। লিম্ফোসাইট শ্বেতকণিকা অ্যান্টিবডি গঠন করে বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রমণকে প্রতিহত করে।
রক্ত জমাট বাঁধা না হওয়ার কারণ
প্রশ্ন: স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তনালির মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধে না কেন? উত্তর: স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তনালির মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধে না, কারণ—১. রক্তে বেসোফিল শ্বেত রক্তকণিকা হেপারিন নামক একপ্রকার পদার্থ নিঃসৃত করে, যা রক্তনালির মধ্যে রক্তকে জমাট বাঁধতে দেয় না। ২. রক্তনালির গাত্র খুবই মসৃণ, এর ফলে রক্তের অণুচক্রিকা অবিকৃত থাকে এবং অণুচক্রিকা থেকে থ্রম্বোপ্লাস্টিন নির্গত হয় না।
ঘর্ষণের সুবিধা
প্রশ্ন: দৈনন্দিন জীবনে ঘর্ষণের তিনটি সুবিধা উল্লেখ করো। উত্তর: দৈনন্দিন জীবনে ঘর্ষণের তিনটি সুবিধা হলো: ১. ঘর্ষণ আছে বলেই আমরা হাত দিয়ে খাতা, কলম, বইসহ যাবতীয় জিনিস ধরতে পারি। ২. গাড়ি বা সাইকেলের টায়ার ও ব্রেকের ঘর্ষণের ওপর আমাদের জীবন নির্ভরশীল। ৩. বাতাসের ঘর্ষণ আছে বলেই প্যারাস্যুট ব্যবহার করে কেউ বিমান থেকে নিরাপদে নামতে পারে।
ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বলের বৈশিষ্ট্য
প্রশ্ন: ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বলের বৈশিষ্ট্য কী? উত্তর: ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বলের বৈশিষ্ট্য: ১. ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বল সব সময়ই দুটি ভিন্ন বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে, কখনোই একই বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে না। ২. প্রতিক্রিয়া বলটি ততক্ষণই থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত ক্রিয়া বলটি থাকবে। ক্রিয়া থেমে গেলে প্রতিক্রিয়াও থেমে যাবে। ৩. এ ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বলদ্বয় বস্তুগুলোর স্থিরাবস্থায় বা গতিশীল অবস্থায় বা সাম্যাবস্থায় থাকা বা একে অপরের সংস্পর্শে থাকা বা না–থাকার ওপর নির্ভরশীল নয়—সর্বত্রই বর্তমান থাকে।
মৌমাছির হুল ও বেকিং সোডা
প্রশ্ন: মৌমাছির হুল ফোটানো স্থানে বেকিং সোডা লাগালে ব্যথা কমে যায় কেন? উত্তর: মৌমাছির হুলে ফরমিক অ্যাসিড থাকে। এই অ্যাসিডকে প্রশমিত করতে একটি দুর্বল ক্ষারকের প্রয়োজন হয়। তাই আমরা বেকিং সোডা আক্রান্ত স্থানে লাগাই। এতে ব্যথা উপশম হয়।
HCl তীব্র অ্যাসিড, H2CO3 মৃদু অ্যাসিড কেন?
প্রশ্ন: HCl তীব্র অ্যাসিড অথচ H2CO3 মৃদু অ্যাসিড কেন? উত্তর: HCl জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয়ে H+ উৎপন্ন করে। তাই HCl তীব্র অ্যাসিড। H2CO3 জলীয় দ্রবণে অতি অল্পসংখ্যক H+ উৎপন্ন করে। তাই H2CO3 মৃদু অ্যাসিড।
OH মূলক ও ক্ষার
প্রশ্ন: কোনো যৌগে OH- মূলক থাকলেই তা ক্ষার হয় না—উক্তিটির ব্যাখ্যা করো। উত্তর: কোনো যৌগে OH- মূলক থাকলে তা ক্ষার না হয়ে ক্ষারকও হতে পারে। ক্ষার হতে হলে অবশ্যই তা পানিতে দ্রাব্য হতে হবে। কিন্তু ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হতে পারে, না–ও হতে পারে।
খাদ্যে লবণ ব্যবহারের কারণ
প্রশ্ন: খাদ্যে লবণ ব্যবহার করা হয় কেন? উত্তর: খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি ও খাদ্যকে পচন থেকে সংরক্ষণে সহায়তা করে বলে খাদ্যে লবণ ব্যবহার করা হয়। খাদ্য লবণের সঙ্গে পটাশিয়াম আয়োডাইড লবণ মিশিয়ে আয়োডাইড লবণ তৈরি করা হয়। আয়োডাইড লবণ ব্যবহারে গলগণ্ড রোগ থেকে রক্ষা পাই। এ কারণেই প্রায় সব ধরনের খাদ্য প্রস্তুতিতে সব সময় আয়োডাইডযুক্ত লবণ ব্যবহার করে থাকি।
সিটবেল্ট পরার কারণ
প্রশ্ন: গাড়ি চালানোর সময় চালককে সিটবেল্ট পরতে হয় কেন? উত্তর: গাড়ি চালানোর সময় চালককে জড়তার কারণে সিটবেল্ট পরতে হয়। সিটবেল্ট ছাড়া চলমান গাড়ির চালক যদি হঠাৎ ব্রেক প্রয়োগ করেন, তবে জড়তার কারণে তিনি সামনে ঝুঁকে পড়বেন এবং স্টিয়ারিং ও উইন্ড স্ক্রিনে আঘাত পাবেন। এ কারণে চালককে সিটবেল্ট পরে নিতে হয়।
ট্রাফিক সিগন্যালে হলুদ বাতি
প্রশ্ন: ট্রাফিক সিগন্যালে সবুজ বাতির পর লাল বাতি না জ্বলে হলুদ বাতি জ্বলে কেন? উত্তর: আমরা দেখতে পাই, সবুজ বাতির পর সরাসরি লাল বাতি না জ্বলে হলুদ বাতি জ্বলে। এর কারণ, সবুজ বাতির পর লালবাতি জ্বলে উঠলে দ্রুতগামী গাড়িকে থামার জন্য হার্ডব্রেক ধরতে হতো এবং এতে জড়তার কারণে চালক ও আরোহীদের আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকত। হলুদ বাতি দেখে চালক ধীরে ধীরে থামার প্রস্তুতি নিতে পারেন।
জীবন্ত তারে শক লাগার কারণ
প্রশ্ন: জীবন্ত তার সংস্পর্শে কেন শক লাগে? উত্তর: জীবন্ত তারে তড়িৎ ভোল্টেজ থাকে বলে শক লাগে। কেউ যদি খালি পায়ে; অর্থাৎ মাটিতে সংস্পর্শে রেখে জীবন্ত তার স্পর্শ করে, তবে তার শরীরের ভেতর দিয়ে তড়িৎ–প্রবাহ চলে এবং ওই ব্যক্তির ওপর বৈদ্যুতিক শক লাগে। এতে তার মৃত্যুও হতে পারে।
এনার্জি সেভিং বাল্বের ব্যবহার বৃদ্ধি
প্রশ্ন: বর্তমানে এনার্জি সেভিং বাল্বের ব্যবহার কেন বাড়ছে? উত্তর: সাধারণ বাল্ব ব্যবহারে অনেক তড়িৎ–শক্তি খরচ হয় বলে বর্তমানে এনার্জি সেভিং বাল্বের ব্যবহার বাড়ছে। এনার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহারের ফলে নিজস্ব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশেরও বিভিন্ন দিক থেকে সুবিধা হয়। এ কারণে এনার্জি সেভিং বাল্বের ব্যবহার বাড়ছে।
মো. আবু সুফিয়ান, শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা



