বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে কার্যক্রম শুরু
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা ভেঙে প্রশাসনিক কাজ শুরু

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে চলমান 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তরে লাগানো তালা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলমের উপস্থিতিতে এসব তালা ভেঙে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন কর্মকর্তারা। আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা এ ঘটনাকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করে উপাচার্য একের পর এক অন্যায্য আচরণে এই দাবির প্রতি তাঁর ইচ্ছাকৃত অনীহা প্রকাশ করে যাচ্ছেন। উপাচার্য গতকাল বুধবার ঘোষণা দিয়ে তালা ভেঙে শিক্ষকসুলভ আচরণ করেননি।

ঘটনার পটভূমি

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চলমান পরিস্থিতিতে আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। এ সময় তিনি উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে আন্দোলনরত শিক্ষকদের আলোচনার জন্য ডাকা হলেও তাঁরা এতে সম্মতি দেননি। এরপরেই প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তরে লাগানো তালা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন উপাচার্য। বাইরে থেকে মিস্ত্রি এনে এসব তালা ভাঙা হয়। এ সময় উপাচার্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে ঘুরে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এর আগে গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও ক্রিয়াশীল সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় উপাচার্য ঘোষণা দিয়েছিলেন, আজ শিক্ষকদের আলোচনার জন্য ডাকা হবে এবং শাটডাউন প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হবে। এতে সায় না দিলে সব দপ্তরের তালা ভেঙে ফেলা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের বক্তব্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবীর আজ দুপুরে বলেন, 'উপাচার্যের নির্দেশে তালা ভেঙে আমরা কার্যালয়ে প্রবেশ করেছি এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম চালাচ্ছি।'

এদিকে শিক্ষকদের শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকায় আজ ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা বিরাজ করে। চার দিন ধরে এই অচলাবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষকদের অবস্থান

গত সোমবার আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত করে প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজকর্মে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় রয়েছেন।

জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, 'আমাদের আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু প্রচুর অসত্য কথা বলেন। শিক্ষকদের ন্যায্য একটা দাবিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঝুলিয়ে–পেঁচিয়ে উপেক্ষা করছেন।' তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এটা শুধু সম্মানের বিষয়। উপাচার্য সেই সম্মানটুকু শিক্ষকদের নিশ্চিত করতে কুণ্ঠাবোধ করছেন।

উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া

এ প্রসঙ্গে উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, 'বিভাগীয় কমিশনার ও নগর পুলিশ কমিশনার আজ সকালে ক্যাম্পাসে এসে আলোচনার জন্য শিক্ষকদের ডেকেছিলেন। কিন্তু তাঁরা আসতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য আমরা তালা খুলে দিয়েছি।'

বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য খলিল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, 'শিক্ষকদের সঙ্গে আমরা তিন দফা বসেছি। একবারের আলোচনায় আমরা সবাই একমত হয়েছিলাম যে দুটি টায়ারের পদোন্নতি দেওয়া হবে। যেমন প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক। আর যে ১২ জন অধ্যাপকের পদোন্নতির বিষয় রয়েছে, সেটার ব্যাপারে পদ সৃষ্টি হয়নি। তাই সংবিধি প্রণয়ন করে তাঁদের পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁরা একমত হয়েছিলেন। এরপর আবার তাঁরা আন্দোলনে গিয়েছেন।' আইনের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে দাবি আদায় করা কতটা যুক্তিযুক্ত, এটাও তাঁদের বিবেচনায় নিতে হবে।