প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের নির্দেশনা জারি
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় চলতি এপ্রিল মাসে সারা দেশে দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। এই পদক্ষেপটি পরীক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারি চিঠির মাধ্যমে তথ্য প্রকাশ
সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনস্থ সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সুশান্ত কুমার শাহাড়ো একটি সরকারি চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশনা ও পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরীক্ষার দিন প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী উপস্থিত থাকতে হবে, যাতে কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা প্রদান করা যায়।
পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণা
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর জন্য নির্ধারিত তারিখ ও সময়সূচি নিম্নরূপ:
- প্রথম দফা: ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, যথাক্রমে বুধবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার, পার্বত্য তিন জেলা (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) ব্যতীত দেশের অন্যান্য ৬১টি জেলায় অনুষ্ঠিত হবে।
- দ্বিতীয় দফা: ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, যথাক্রমে শুক্রবার, শনিবার, রোববার ও সোমবার, কেবলমাত্র রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় অনুষ্ঠিত হবে।
উভয় দফার পরীক্ষাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। এই সময়সূচি শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবং পরীক্ষা পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপর জোর
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী লাখো শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো বয়ে আনবে:
- পরীক্ষার্থীদের মধ্যে হঠাৎ অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান।
- পরীক্ষার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করা।
- শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি করা।
এই উদ্যোগটি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য পরীক্ষা ও বৃহৎ অনুষ্ঠানেও অনুসরণ করা যেতে পারে।



