চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ফেসবুক পোস্টে বীরশ্রেষ্ঠদের নাম ও ছবিতে একাধিক ভুল
চবি ছাত্র সংসদের ফেসবুক পোস্টে বীরশ্রেষ্ঠদের নাম ও ছবিতে ভুল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ফেসবুক পোস্টে বীরশ্রেষ্ঠদের নাম ও ছবিতে একাধিক ভুল

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ছিল বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামালের শাহাদাতবার্ষিকী। এই উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট প্রকাশ করে। তবে পোস্টটিতে ফটোকার্ড ও ক্যাপশনে একাধিক গুরুতর ভুল ধরা পড়ে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পোস্টে কী ভুল ছিল?

প্রকাশিত পোস্টের ফটোকার্ডে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নাম ভুলভাবে লেখা হয়েছিল ‘মুস্তাফা কামাল’। ছবির নিচের ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছিল ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী’। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, ক্যাপশনের সঙ্গে সংযুক্ত ছবিটি ছিল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের। এছাড়া ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ বানানটিও ভুলভাবে লেখা হয়েছিল ‘বীরশ্রেষ্ট’

ঘটনার ক্রমবিকাশ

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে পোস্টটি প্রকাশ করা হয়। সমালোচনা শুরু হওয়ার পর পোস্টটি সম্পাদনা করে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নাম বসানো হয়। কিন্তু সংশোধিত পোস্টেও ভুল রয়ে যায়, যেখানে মোস্তফা কামালের শাহাদাতবার্ষিকীর কথা উল্লেখ করা সত্ত্বেও নূর মোহাম্মদ শেখের ছবি ব্যবহার করা হয়। শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমালোচনার মুখে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

চাকসুর এমন ভুলের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি ও আরবি বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সাকিব মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চাকসু নেতৃবৃন্দের অবস্থান বরাবরই ধোঁয়াটে। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের শাহাদাতবার্ষিকীতে মতিউর রহমানের নাম ও নূর মোহাম্মদ শেখের ছবি যুক্ত করা সাধারণ কোনও ভুল নয়। মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ না করে দায়সারা পালন করতে গেলেই এমন ভুল হয়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রোমান রহমানও একই মত পোষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘চাকসুর বর্তমান নেতৃত্বে ইসলামী ছাত্রশিবির-সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতির কারণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে তাদের অজ্ঞতা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। যথাযথভাবে চেতনা ধারণ না করার কারণেই বিভ্রান্তিকর ভুল হচ্ছে।’

চাকসু নেতাদের ব্যাখ্যা

চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ বলেন, ‘গতকাল রাতে দেওয়া পোস্টটিতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়েছে। সাধারণত পোস্টগুলো যাচাই করে প্রকাশ করা হয়, তবে গতকাল তা করা হয়নি। মূলত দফতর সম্পাদক পোস্টটি করেছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর পোস্টটি প্রথমে সংশোধন করা হয়। পরে বেশি ভুল থাকায় সেটি সরিয়ে ফেলা হয়।’

দফতর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান ব্যাখ্যা দেন, ‘তাড়াহুড়ার কারণে ১৮ এপ্রিলের মধ্যেই পোস্টটি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এতে অনিচ্ছাকৃতভাবে নামের ভুল, বানানের ভুল এবং ছবির অসংগতি হয়েছে। ছবিটি আগে থেকেই ছিল, কিন্তু যাচাই করা হয়নি।’

চাকসুর সহসভাপতি ইব্রাহীম ও সাধারণ সম্পাদক সাইদ বিন হাবিবের মোবাইলে কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। এজিএস আইয়ুবুর রহমান বলেন, ‘গঠনতন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার কথা থাকলেও অনেক সদস্য তা বাস্তবে ধারণ করেন কি না, সে বিষয়ে আমার সংশয় রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচিরও অভাব রয়েছে। আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবে ধারণ এবং এ বিষয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।’

এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।