নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে চবিতে একক প্ল্যাকার্ড প্রতিবাদ
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দাবিতে চবিতে একক প্রতিবাদ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে চবিতে একক প্রতিবাদ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) একাই প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছেন সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সম্পাদক ওয়াহিদুল আলম। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় চবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। পরে বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

প্ল্যাকার্ডে স্পষ্ট দাবি

ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ছাত্রলীগ নেতা ওয়াহিদুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে একা একটি পোস্টার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কর, করতে হবে’ এবং ‘প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ’। জানা গেছে, দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন তিনি। তবে ঘটনা জানার পর সেখানে গেলে তাকে দেখা যায়নি।

ওয়াহিদুল আলমের পরিচয় ও পূর্ববর্তী কার্যক্রম

ওয়াহিদুল আলম স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামে তার বাড়ি। এর আগেও তিনি তার গ্রামে ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। জুলাইয়ে হামলায় তার বিরুদ্ধে মামলাও ছিল বলে জানা গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘সে ছবি তুলতে যতক্ষণ সময় নিয়েছে ততক্ষণই দাঁড়িয়েছে। এটা কারও নজরে আসার আগেই পালিয়ে গেছে। আমরা এখন তাকে আইডেন্টিফাই করার চেষ্টা করছি। সে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কোরবান আলী বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা জেনেছি। শহীদ মিনারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে আগে তার পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।’

ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বক্তব্য

চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘এই ছেলেটাই ঈদের দুই দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিছু পোলাপান নিয়ে মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছে। বিষয়টা জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী গিয়ে তাদের প্রতিহত করি। একই ছেলে আজকে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছে। সে জোবরা গ্রামেই থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এমন কিছু কর্মসূচি করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। আমি মনে করি, প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগে তারা এমন করে যাচ্ছে।’

চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ বলেন, ‘এই ছেলের বিরুদ্ধে জুলাই কেন্দ্রিক মামলা ছিল। এর আগেও সে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এক্ষেত্রে নির্বিকার ভূমিকা পালন করতেছে।’

পরিস্থিতির মূল্যায়ন

এই ঘটনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কার্যক্রম ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ওয়াহিদুল আলমের একক প্রতিবাদ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়েছে, যা ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা সত্ত্বেও, পূর্ববর্তী মামলা ও কর্মসূচিগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির নেতারা।