রাজশাহী নার্সিং কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি পালিত
রাজশাহী নার্সিং কলেজে অধ্যক্ষ পদ শূন্য থাকার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। আজ শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলেজ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এই কর্মসূচির নেতৃত্ব প্রদান করে।
অধ্যক্ষ পদ শূন্য থাকায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক সংকট
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১ ফেব্রুয়ারি সাবেক অধ্যক্ষ মতিয়ারা খাতুন অবসরে যাওয়ার পর থেকে কলেজটিতে অধ্যক্ষের পদটি শূন্য রয়েছে। প্রায় আড়াই মাস ধরে কোনো স্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়ায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্মক স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা, পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ এবং ক্লাস রুটিন প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
দাপ্তরিক কাজ ও আর্থিক সমস্যা
অধ্যক্ষ না থাকায় ফাইল অনুমোদন আটকে থাকায় বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড প্রদান এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বিতরণও বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা আর্থিক ও শিক্ষাজীবন—উভয় দিক থেকেই চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি
শিক্ষার্থীরা জানান, এই সমস্যার সমাধানের জন্য তারা ইতিমধ্যে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর (ডিজিএনএম), বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীরা তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যক্ষ পদ শূন্য থাকায় আমরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ নিয়োগ না হলে আমাদের আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।’
আজকের এক ঘণ্টার কর্মসূচি পালনের পর রাশিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, আগামীকাল রোববার এবং পরদিন সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংহতি
এই কর্মসূচিতে ‘ব্রাইট লাইফ ভলান্টিয়ার্স’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সংহতি প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমানুল্লাহ আমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। দ্রুত অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রদান করে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।’



