জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চবিতে মানববন্ধন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে জুলাই সনদ ও গণভোটের জনরায় বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। 'ক্যাম্পেইন ফর এ বেটার বাংলাদেশ' নামের একটি সংগঠন বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও বক্তব্য
এই মানববন্ধনে প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ইতিহাস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাতুল বিন হোসেনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রবিউল হাসান, আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসেন সোহাগ, ইতিহাস বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহসান হাবিব, চারুকলা ইনস্টিটিউটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এস এইচ সোহেল এবং ইতিহাস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিব হোসেন।
জুবায়ের হোসেন সোহাগ তার বক্তব্যে বলেন, '৫ আগস্টের পর আমরা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র কাঠামো নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলাম। সেই লক্ষ্যেই জুলাই সনদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। আমরা নতুন করে কাউকে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে দিতে চাই না। তাই অবিলম্বে বর্তমান সরকারের কাছে এই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।'
মোহাম্মদ রবিউল হাসান উল্লেখ করেন, 'চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর গণমানুষের প্রধান প্রত্যাশা ছিল জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও এটি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হচ্ছে। আমরা চাই, সরকার দ্রুত গণভোটের রায় কার্যকর করুক।'
তাহসান হাবিব বলেন, 'নির্বাচনের আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও নির্বাচনের পর এর সাংবিধানিকতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।'
কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট
এই মানববন্ধন কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। সংগঠনটি দাবি করে যে, গণভোটে ব্যাপক জনসমর্থন সত্ত্বেও এর প্রয়োগে বিলম্ব হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের কাছে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন যাতে গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা দেশব্যাপী রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, বিশেষ করে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি তুলে ধরার ক্ষেত্রে।



