ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ক্ষণিকা' বাসে মারাত্মক দুর্ঘটনা: আহত ৭-৮ শিক্ষার্থী
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) 'ক্ষণিকা' নামে একটি স্টাফ বাস গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে এই দুর্ঘটনায় সাত থেকে আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সকালে উত্তরা রুটে চলাচলকারী ঢাবির স্টাফ বাস 'ক্ষণিকা' পরিবহনটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিএফডিসি সামনের র্যাম্প দিয়ে নামার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা আমির হামজার বর্ণনা অনুযায়ী, বাসটির টায়ার লিকেজ হয়ে আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনটি প্রাইভেটকার ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়, যা আহত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
আহত শিক্ষার্থীদের অবস্থা
আহতদের মধ্যে মুনতাসিন নাসিম (২৩) নামে একজন শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ঢাবির এমআইএস ডিপার্টমেন্টের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ঢাবির সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, "উত্তরা থেকে ছেড়ে আসা বাসটি মগবাজারে পৌঁছালে যানটির চাকা ব্লাস্ট হয়। ওই সময় বাসটি আরেকটি বাসে ধাক্কা দেয়। এতে সাত থেকে আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়। যারা আহত হয়েছেন তাদের একজন ঢাকা মেডিক্যালে, আর কয়েকজন বাইরের মেডিক্যালে চিকিৎসা নিচ্ছে। কারও বড় কোনও ক্ষতি হয়নি।"
দুর্ঘটনার প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই দুর্ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদেরই নয়, এলাকার যানবাহন চলাচলেও প্রভাব ফেলেছে। তিনটি প্রাইভেটকার ও একটি অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদানে সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এমন দুর্ঘটনা শহরের যানজট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পরিবহন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



