ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের স্মরণসভা: শিক্ষকতা ও আদর্শের আলোকবর্তিকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (ডিইউএমসিজেএএ) আজ শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের স্মরণসভার আয়োজন করে। বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান গত ৯ মার্চ ৮৫ বছর বয়সে ঢাকায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন তিনি।
শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে স্মরণ
স্মরণসভার শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং খালি গলায় ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গান পরিবেশনের মাধ্যমে প্রয়াত অধ্যাপকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অ্যালামনাইয়ের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে স্মৃতিচারণার পর্ব শুরু করেন।
অধ্যাপক কাবেরী গায়েন তাঁর একসময়ের ছাত্রী ও সহকর্মী হিসেবে স্মৃতিচারণা করে বলেন, “অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান সহজ কথা সহজ করে বলতে পারতেন। তিনি সবকিছুকে উপমা দিয়ে জীবন্ত করে তুলতে পারতেন। তাঁর সংস্পর্শে যে-ই এসেছে, তার জীবনেই তিনি আলো জ্বালিয়েছেন।”
সাংবাদিকতা শিক্ষার দিকপাল
অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, “বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার দিকপাল যাঁদের বলা হয়, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী। অভিজ্ঞতা ও তাত্ত্বিক জ্ঞানের সমন্বয়ে তিনি অনন্য হয়ে উঠেছিলেন।” অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম তাঁর মৃত্যুকে ‘নক্ষত্রের পতন’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, “স্মৃতি থেকে মুছে দেওয়া সম্ভব নয়, এমন ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি।”
সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, “অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মানুষবান্ধব একজন ব্যক্তি ছিলেন। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে তিনি ছিলেন পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং আমৃত্যু শিক্ষক।”
পরিবার ও শিক্ষার্থীদের আবেগময় স্মৃতি
প্রয়াত অধ্যাপকের সহধর্মিণী মালেকা খান দাম্পত্যজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “তিনি সব সময় আমার ও আমাদের পাশে ছিলেন। ভুলগুলোকে তুলে ধরে সংশোধন করতেন এবং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার দিকে খুব তাগিদ দিতেন।”
তাঁর মেয়ে ও প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন বলেন, “বাবার মনের বিরাট অংশ জুড়ে ছিল তাঁর ছাত্রছাত্রীরা। শেষবার অসুস্থ হওয়ার দুদিন আগেও ক্লাস নিয়েছেন। কাজ ও পেশার প্রতি তাঁর অঙ্গীকার ছিল অটুট।”
শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ
স্মরণসভায় ছাত্রছাত্রীরা অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের অবদানকে জাগ্রত রাখতে একগুচ্ছ প্রস্তাব তুলে ধরেন:
- তাঁর নামে স্মারক বক্তৃতা, বৃত্তি ও ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা
- স্মারকগ্রন্থ ও ডকুমেন্টারি প্রকাশ
- পিস জার্নালিজম নিয়ে সেন্টার প্রতিষ্ঠা
- সেরা থিসিস পুরস্কার প্রবর্তন
অলিউর রহমান বলেন, “সাখাওয়াত আলী খান প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবনে একটা অনন্য পৃথিবী তৈরি করে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একটি চলন্ত বিশ্ববিদ্যালয়।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার জানান, ১৩ এপ্রিল ‘স্মৃতি তর্পণ’ শিরোনামে আরেকটি স্মরণসভার আয়োজন করা হবে। ডিইউএমসিজেএএর সাধারণ সম্পাদক মীর আত্তাকী মাসরুরুজ্জামান সঞ্চালনা এবং সভাপতি শামসুল হকের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে দোয়ার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে।



