ইসলামী ছাত্রশিবিরের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন, ডাকসু-রাকসু-জকসু নেতারা পেলেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
ইসলামী ছাত্রশিবিরের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন, বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা দায়িত্বে

ইসলামী ছাত্রশিবিরের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন, বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা পেলেন গুরুত্বপূর্ণ পদ

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অধিবেশনে ২০২৬ সেশনের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ ও সেক্রেটারিয়েট গঠন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আল ফালাহ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের প্রথম সাধারণ সভায় এই নির্বাচন ও গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নতুন কমিটিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন, যা সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

নতুন গঠিত কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদে ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদিক কায়েমকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং জিএস এসএম ফরহাদকে প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে। একইভাবে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সমাজসেবা সম্পাদক এবং জকসু প্রতিনিধি রিয়াজুল ইসলাম প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে ইব্রাহিম হোসেন রনিকে, যিনি সংগঠনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নিয়ে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অধিবেশনের বিশেষ মুহূর্ত ও উপস্থিতি

অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংগঠনের ১২৩তম শহীদ রেজবুল হক প্লাবনের পিতা মো. আজাদুল ইসলাম, যা অনুষ্ঠানকে বিশেষ মর্যাদা দান করে। কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিরা অংশ নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ বিনিময় করেন, যা নতুন কমিটির জন্য পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

নির্বাচন প্রক্রিয়া ও গঠন কাঠামো

সংগঠনের সংবিধান অনুযায়ী সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে ২০২৬ সেশনের জন্য ৪৭ জন কার্যকরী পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পরে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম নির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে আরও ১৫ জনকে মনোনয়ন দেন, যা কমিটির ভারসাম্য ও দক্ষতা নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে কার্যকরী পরিষদের পরামর্শক্রমে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট গঠন করা হয়, যা সংগঠনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।

কার্যকরী পরিষদের দায়িত্ব ও লক্ষ্য

কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘সংগঠনের সর্বস্তরে ইসলামী নীতির অনুসরণ নিশ্চিত করা, সংবিধান অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়নের তত্ত্বাবধান করা এবং ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধনে ভূমিকা রাখা কার্যকরী পরিষদের প্রধান দায়িত্ব।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতি ও সাহাবায়ে কেরামের দায়িত্ববোধ ধারণ করে সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে লক্ষ্য রেখে নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার মানসিকতায় কাজ করতে হবে, যা সংগঠনের সাফল্যের চাবিকাঠি।’

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

কেন্দ্রীয় সভাপতি আরও বলেন, ‘আগামীর বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকরী পরিষদকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। জনশক্তির নৈতিক মানোন্নয়ন, আদর্শিক দৃঢ়তা ও চারিত্রিক শুদ্ধতা রক্ষায় তত্ত্বাবধান জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, যা আমাদের সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।’ তার এই বক্তব্য নতুন কমিটির জন্য একটি রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে, যাতে তারা সংগঠনের ঐতিহ্য ও আদর্শ বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যেতে পারে।

এই গঠনপ্রক্রিয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে সংগঠনটি আরও গতিশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতাদের অন্তর্ভুক্তি সংগঠনের প্রভাব ও কার্যক্রমকে বিস্তৃত করবে, যা শিক্ষার্থী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।