ময়মনসিংহে ছিনতাইয়ের শিকার নিখোঁজ শিক্ষার্থী শাওন উদ্ধার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওনের অক্ষত উদ্ধার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আনন্দ মোহন কলেজ চত্বরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর দ্রুত ও নিরাপদ ফেরত এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়।
ঘটনার বিবরণ
গত বুধবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন ও মঞ্জুরুল আহসান ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাড়ে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অন্তত সাতজনের একটি কিশোর দল তাদের ঘিরে ধরে টাকা-পয়সা দাবি করে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে দলটি দুই বন্ধুকেই মারধর শুরু করে।
একপর্যায়ে নুরুল্লাহ শাওন প্রতিবাদ করলে তাকে বেদম মারধর করা হয়। দুই বন্ধু আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, যেখানে চারজন শাওনের পিছু নেয় এবং তিনজন মঞ্জুরুলের পিছু ধরে। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে সক্ষম হলেও নুরুল্লাহ শাওনের কোনো খোঁজ মেলেনি। পরে মঞ্জুরুল স্থানীয় এলাকাবাসী ও বন্ধুদের সহায়তায় দলটির ১৫ বছর বয়সী এক সদস্যকে ধরে থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিচয়
নিখোঁজ শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬) ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরজাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। আজ সকালে শাওনের ব্যাগ ও জুতা পাওয়া গেলেও তার দেহ বা জীবিত অবস্থার কোনো সন্ধান মেলেনি। পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়ে নদে সন্ধান চালালেও এখনো সফলতা আসেনি।
মানববন্ধন ও দাবি
শিক্ষার্থী শাওনকে অক্ষত উদ্ধারের দাবিতে আজ বেলা তিনটার দিকে আনন্দ মোহন কলেজ চত্বরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল আহমেদ বলেন, "আমাদের শিক্ষার্থীকে দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই। একই সঙ্গে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"
পুলিশি তদন্ত ও মামলা
আজ বিকেলে শাওনের মা শাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন, যেখানে সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন-চারজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ সন্ধ্যায় এই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, "দুই শিক্ষার্থী নদীর ওপারে ঘুরতে গিয়েছিলেন। একজনকে এখনো পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক একজন কিশোরকে আটক করে আমাদের হেফাজতে দেয়া হয়েছে, তাকে আমরা গ্রেপ্তার দেখিয়েছি। আগামীকাল শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সবাই কিশোর; অষ্টম-নবম শ্রেণির ছাত্র। নিখোঁজ ছাত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার অভিযান চলবে।"
সহপাঠীর বর্ণনা
ঘটনার সময় শাওনের সঙ্গে থাকা মঞ্জুরুল আহসান বলেন, "জয়নুল উদ্যান এলাকায় থাকা লাইব্রেরিতে পড়া শেষে বিকেলে দুজন ঘুরতে গিয়ে একটু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ছিনতাইকারী কিশোর দল আমাদের ঘিরে ধরে। আমাদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন দিতে চাইলেও তারা মারধর করে। দুই বন্ধু আত্মরক্ষার্থে দুদিকে ছুটে যাই। আমি বাঁচতে পারলেও বন্ধুকে খুঁজে পাচ্ছি না। জানি না ওর কী হয়েছে।"
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নিরাপদ ফেরত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
