রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রারের নিয়োগ বাতিল, দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার হারুন অর রশিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার দুপুরে রংপুর নগরের একটি হোটেলের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন হারুন অর রশিদ।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
সংবাদ সম্মেলনে হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর তাঁকে দায়িত্বপালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে অফিসে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, বরাদ্দকৃত গাড়িতে উঠতে দেওয়া হয়নি। এমনকি আমাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে অপসারণ করা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, উপাচার্য শওকাত আলীসহ বিভিন্নজনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সামনে আনায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হারুন অর রশিদ জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮ জন কর্মকর্তার সনদ জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়। পাঁচ শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির অভিযোগেও তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এসব কারণে তিনি উপাচার্যসহ একটি গোষ্ঠীর বিরাগভাজন হন। তিনি আরও দাবি করেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলাটি দুর্বল করতে তাঁকে অপসারণ করা হয়েছে।
উপাচার্যের বক্তব্য
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য শওকাত আলী বলেন, রেজিস্ট্রারের নিয়োগ শর্তে গোপনীতা রক্ষার কথা বলা আছে, কিন্তু হারুন অর রশিদ তা ভঙ্গ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যতগুলো তদন্ত কমিটি হয়েছে, সবগুলোর প্রতিবেদন যদি সিন্ডিকেটের আগেই বাইরে যায়, এতে সিন্ডিকেট সদস্যরা বিব্রত হন। এ ছাড়া অন্য দপ্তরগুলোও তাঁর বিরোধিতা করেছে।’ এ কারণে জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে সবার মতামত নিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে উপাচার্য দাবি করেন, ‘আমি দুর্নীতির মধ্যে ইনভলভ না। কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ দেখাতে পারলে আমি সেটার মুখোমুখি হব।’
সাবেক রেজিস্ট্রারের পাঁচ দাবি
সংবাদ সম্মেলনে হারুন অর রশিদ পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন:
- শহীদ আবু সাঈদ ও তাঁর সহপাঠী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত এবং মামলা-বাণিজ্য না করে যথাযথভাবে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া।
- শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন হয়রানি, জালিয়াতি করে চাকরি গ্রহণসহ সব তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং চলমান তদন্তগুলোর প্রতিবেদন অবিলম্বে জমার পাশাপাশি পুনঃ তদন্ত এবং তদন্তের নামে কালক্ষেপণ বন্ধ।
- সাবেক ও বর্তমান উপাচার্য ও তাঁদের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দুর্নীতি, অনিয়ম, নিয়োগ ও পদোন্নতির বাণিজ্য বন্ধে উচ্চপর্যায়ের জাতীয় তদন্ত কমিটি কমিশন গঠন।
- ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে ব্রাকসু নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে শিক্ষক সমিতিসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমিতি ও ইউনিয়নগুলো চালু।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ–বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের সোচ্চার ভূমিকা পালন।
নিয়োগের ইতিহাস
২০২৪ সালের নভেম্বরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান হারুন অর রশিদ। গত ৫ নভেম্বর তাঁকে আরও এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সিন্ডিকেট সভায় এই নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক হারুন অর রশিদের পাশে উপস্থিত ছিলেন।
