রুয়েটে নারী শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগে কঠোর শাস্তি: ৯ জন বহিষ্কার, একজন আজীবনের জন্য বহিষ্কৃত
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী শিক্ষার্থী নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করার পাশাপাশি অপর আট শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বহিষ্কারের বিস্তারিত তথ্য ও শাস্তির মেয়াদ
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রুয়েট ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের তালিকা ও শাস্তির বিবরণ নিম্নরূপ:
- সুমন মজুমদার (আইডি: ২৪০৩১২৯): কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
- তিন শিক্ষার্থী: সহযোগিতার অভিযোগে তিনজনকে তিন শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কারের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
- পাঁচ শিক্ষার্থী: উস্কানির অভিযোগে পাঁচজনকে এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের অবস্থান
একই সঙ্গে অভিযুক্ত আটজন শিক্ষার্থীকে তাদের শিক্ষাজীবনের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক সনদ (ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট) প্রদান করা হবে না।
প্রফেসর ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, 'যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রুয়েটের ডিসিপ্লিনারি অর্ডিন্যান্সের ৬ নং ধারায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীসহ সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। অভিযোগ ওঠার পরপরই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেছে এবং এ সংক্রান্তে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। নারী শিক্ষার্থী নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার রুয়েট ক্যাম্পাসে এ ধরনের আচরণের স্থান নেই।'
তদন্ত প্রক্রিয়া ও শাস্তির আইনি ভিত্তি
রুয়েট কর্তৃপক্ষ নারী শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। অভিযোগের পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিসিপ্লিনারি কমিটি শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি অর্ডিন্যান্সের ৬ নং ধারা অনুসারে এ শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন দেয়।
এ ঘটনায় রুয়েট প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে যে, নারী নিপীড়ন বা যেকোনো ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে।
