শিক্ষা উদ্যোক্তা শেখ কবির হোসেনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া
শিক্ষা উদ্যোক্তা শেখ কবির হোসেন মারা গেছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত কয়েক বছর ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, যা তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মৃত্যুতে শোক ও সমাবেদন
শেখ কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমাবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ), এবং শিক্ষা উদ্যোক্তাগণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ। তার মৃত্যু শিক্ষা ও বীমা খাতে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা
জানা গেছে, শেখ কবির হোসেনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে। এরপর তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে। আগামীকাল রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গোপালগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে, যা তার জন্মস্থানের সাথে সংযুক্ত একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পেশাগত জীবন ও অবদান
শেখ কবির হোসেন বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০০১ সালে বিআইএ-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে টানা ১৩ বছর তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করেন, যা তার নেতৃত্বের দক্ষতার প্রমাণ দেয়। তিনি সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া, তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, পর্যটন করপোরেশন ও সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেছেন, যা তার বহুমুখী পেশাগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। ১৯৭৫ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন, যা তার উদ্যোক্তা মনোভাবের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা উদ্যোগ
১৯৪২ সালে গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন শেখ কবির হোসেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তার শিক্ষাগত যোগ্যতার পরিচয় দেয়। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চাচাতো ভাই ছিলেন, যা তার রাজনৈতিক ও সামাজিক সংযোগের দিকটি উল্লেখযোগ্য করে তোলে।
শেখ কবির হোসেন ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষা উদ্যোক্তা। স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা ছাড়াও তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে তার ব্যাপক ভূমিকা প্রতিফলিত করে। তার উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে গুণগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
