আগুনের ব্যবহার: ১৭ লাখ বছর আগেও হোমো ইরেক্টাসের নিয়ন্ত্রণে ছিল আগুন
আগুনের ব্যবহার: ১৭ লাখ বছর আগেও হোমো ইরেক্টাসের নিয়ন্ত্রণে

আদিম মানুষ কবে থেকে আগুনের নিয়ন্ত্রণ শিখেছিল? দক্ষিণ আফ্রিকার এক গুহায় পাওয়া নতুন এক আবিষ্কারে মানব ইতিহাসের সেই সময়রেখা পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। দেশটির ওয়ান্ডারওয়ার্ক গুহায় প্রায় ১৭ লাখ ৯০ হাজার বছর পুরোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর পোড়া হাড় খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ আমরা যতটা ভাবি, তারও অনেক আগে থেকে আগুনের ব্যবহার জানত।

গবেষণার বিস্তারিত

গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী পিএলওএস ওয়ান-এ প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক একদল বিজ্ঞানী গুহাটির প্রায় ১০০ ফুট গভীরে ১৬১টি ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর জীবাশ্মীভূত হাড় বিশ্লেষণ করেছেন। গুহার এত গভীরে প্রাকৃতিক দাবানলের আগুন পৌঁছানো অসম্ভব, তাই গবেষকদের সিদ্ধান্ত ছিল, তৎকালীন ‘হোমো ইরেক্টাস’ প্রজাতির মানুষরাই সেখানে আগুন নিয়ে গিয়েছিল।

আশ্চর্যজনক তথ্য

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হাড়গুলো পাওয়া গেছে প্যাঁচার ফেলে দেওয়া হাড় ও পশমের স্তূপের ভেতর। গবেষকদের ধারণা, হোমো ইরেক্টাসরা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট দাবানল বা বজ্রপাত থেকে আগুন সংগ্রহ করে গুহায় নিয়ে আসত। এরপর প্যাঁচার ফেলে দেওয়া শুকনো লোম ও হাড়ের স্তূপকে তারা ‘জ্বালানি’ হিসেবে ব্যবহার করত যাতে আগুন দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রযুক্তির ব্যবহার

বিজ্ঞানীরা আধুনিক ‘লুমিনেসেন্স’ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, হাড়গুলো খনিজ পদার্থের কারণে কালো হয়নি, বরং উচ্চ তাপমাত্রার আগুনেই পুড়েছে। বিশেষ নীল আলোয় এই হাড়গুলো থেকে এক ধরণের লালচে আভা বের হয়, যা না পোড়া হাড়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

সূত্র: উইয়ন নিউজ

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ