ডাকসু নেতার বিরুদ্ধে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা দাবি করেছেন মিথ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে হেনস্তা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন। আজ বুধবার বেলা সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদ্দিক আলী এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা
মুসাদ্দিক আলী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আজ বেলা ১টা ২৫ মিনিট থেকে ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে কলা ভবনের পেছনের ফটকের সামনে দিয়ে তিনি ক্লাসে যাচ্ছিলেন, তখন আলাউদ্দিনসহ আরও কয়েকজন তাঁর পথ রোধ করেন। তিনি বলেন, ‘পথ রোধ করে দাঁড়ালে আমি জিজ্ঞেস করি যে কী হইছে ভাই? আপনি কে? আমি ওনাকে চিনতে পারছিলাম না। সে আমাকে প্রথমেই বলে যে তুই আমাকে চিনতে পারতেছিস না? প্রথমেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বলে যে আমার দাঁত ফালায়ে দেবে।’
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থনে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত মুসাদ্দিক আরও অভিযোগ করেন, আলাউদ্দিন তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে একপর্যায়ে মারতে উদ্যত হন। এ সময় সঙ্গীরা তাঁকে সরিয়ে নিলেও বারবার তেড়ে এসে হামলার চেষ্টা করেন এবং যাওয়ার সময় হুমকি দেন।
ছাত্রদল নেতার প্রতিক্রিয়া
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমি মুসাদ্দিককে বলছি, তুমি আমার নামে যে মিথ্যা কথা লিখেছ, আমিও তো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র। আমার নামে যে ভুয়া কথাগুলা, মিথ্যা প্রপাগান্ডা কেন ছড়িয়েছে, এ কথার জবাব চেয়েছি শুধু তাঁর কাছে।’ এই জবাব চাওয়া কোনো অন্যায় কি না, সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার কারণে প্রথমবার পড়াশোনা করতে না পারায় তিনি ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে পুনর্ভর্তি হন। তারপর ২০২৩-২৪ সেশনে দ্বিতীয়বারের মতো আবার ভর্তি হন।
বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির উত্তপ্ত পরিবেশের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ডাকসু ও ছাত্রদলের মধ্যে এই ধরনের সংঘাত আগেও ঘটেছে, যা শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মতবিরোধের সমাধান আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত, হিংসাত্মক পন্থায় নয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রক্টর অফিসের সামনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে মুসাদ্দিক আলী ঘটনাটি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন, যা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। ছাত্রদল নেতার অস্বীকার সত্ত্বেও, এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।



