চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে সহিংসতার অভিযোগে ডাকসু ভিপি শাদিক কায়েমের বক্তব্য
চট্টগ্রাম কলেজে সহিংসতা: ডাকসু ভিপির অভিযোগ

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে সহিংসতার অভিযোগে ডাকসু ভিপির প্রতিক্রিয়া

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ প্রাঙ্গণে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু শাদিক কায়েম। তিনি দৃঢ়ভাবে অভিযোগ করেছেন যে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জেসিডি) কর্মীরা এই সহিংসতায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে, যার ফলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীর পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

কলেজ প্রাঙ্গণে পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ

বুধবার সকালে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আহত শিবির কর্মী আশরাফুল ইসলামকে দেখতে গিয়ে শাদিক কায়েম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "ছাত্রদল কর্মীদের সম্পৃক্ততা এই হামলায় স্পষ্ট। আহতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে।"

তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে এই হামলা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে তা চালানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, "আশরাফুল ইসলামের পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রাফিটি দেয়াল নিয়ে উত্তেজনা ও ধারাবাহিক সংঘর্ষ

কলেজ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার কলেজের একটি দেয়ালে লেখা "ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস" স্লোগান পরিবর্তন করে "গুপ্ত" শব্দ লেখার পর থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ এই পরিবর্তন আনে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। মৌখিক বাকবিতণ্ডা ধীরে ধীরে রূপ নেয় সরাসরি সংঘর্ষে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুই দফা সংঘর্ষে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির কর্মীরা জড়িত ছিল। উভয় পক্ষই ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করে, যার ফলে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে উভয় গ্রুপ দাবি করেছে।

আহত শিবির কর্মীদের অবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শাদিক কায়েমের দাবি অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে ৩০ জনের বেশি শিবির কর্মী আহত হয়েছেন এবং প্রমাণাদি ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর "নিষ্ক্রিয় ভূমিকা" এর তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, সংঘর্ষের শুরুতে ছাত্র ও শিক্ষকরা আক্রান্ত হন এবং পরবর্তীতে সশস্ত্র বহিরাগতরা বিক্ষোভকারীদের উপর নতুন করে হামলা চালায়।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম এই সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামী ছাত্রশিবির কর্মীরাই প্রথম সহিংসতা শুরু করে এবং ছাত্রদল কর্মীরা শুধুমাত্র আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

ঘটনার পর শাদিক কায়েম চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সাথে লালদীঘি পুলিশ সদর দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি একটি স্মারকলিপি জমা দেন, যাতে নিম্নলিখিত দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়:

  1. ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা
  2. জড়িত সকল ব্যক্তির দ্রুত গ্রেপ্তার
  3. দোষী সাব্যস্তদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতকরণ
  4. পুলিশের সম্ভাব্য অবহেলার বিষয়ে পৃথক তদন্ত
  5. কলেজ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা

এই ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির সহিংস রূপ এবং ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।