বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতি জটিলতায় শিক্ষকদের কর্মবিরতি, একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতি জটিলতায় শিক্ষকদের কর্মবিরতি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতি সংকটে শিক্ষকদের কর্মবিরতি, একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাস এবং পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা প্রক্রিয়ায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

পদোন্নতি আটকে থাকায় ৬০ শিক্ষকের দাবি

বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে থাকায় এই কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি প্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৬ জন প্রভাষক। তাদের দাবির পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০২ জন শিক্ষক সংহতি প্রকাশ করেছেন, যা সমস্যার গভীরতা ও ব্যাপকতাকে নির্দেশ করে।

শিক্ষকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের কর্মসূচির পর যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পদোন্নতির ব্যাপারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আগামীকাল বুধবার থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করা হবে। এই অবস্থানে শিক্ষকদের দৃঢ়তা সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও সংবিধিগত জটিলতা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩৫ ও ৩৭ ধারায় উল্লিখিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য উপাচার্যের অনুমোদিত সংবিধি ও বিধি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এমন অনুমোদিত কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই।" তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতিতে শুধু পদোন্নতি নয়, বরং ভর্তি ও পরীক্ষা কার্যক্রমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছুরই আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষকরা দাবি করেছেন, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রথমে কর্মবিরতি এবং পরবর্তীতে শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলমান শিক্ষক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উপাচার্যের বক্তব্য ও আলোচনার আহ্বান

উপাচার্য মো. তৌফিক আলম সাংবাদিকদের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, "শিক্ষকরা ২০১৫ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অধীন পদোন্নতি চাইছেন, কিন্তু তাতে ইউজিসির আপত্তি আছে। তাই পুরোনো নিয়মে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।" তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করেছে, কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তা করেনি।

উপাচার্য শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, "যাতে ক্লাস-পরীক্ষা বিঘ্নিত হয়, সে ধরনের কর্মসূচি থেকে সরে এসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি নতুন সংবিধি প্রণয়ন করি। এতে দ্রুত তারা পদোন্নতি পাবেন।" তার এই বক্তব্য সমস্যা সমাধানে আলোচনার পথ খোলা রাখলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের অসন্তোষ দূর হয়নি।

শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও অতীতের ঘটনা

শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, একাডেমিক কার্যক্রম ও পরীক্ষা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য শিক্ষকদের দাবির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। তারা সতর্ক করেছেন যে, তা না হলে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়বে এবং তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত রোববার সন্ধ্যায় একই দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। ২৩ ঘণ্টা পর সোমবার বিকেলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই ঘটনা সমস্যার তীব্রতা ও জরুরি সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশে একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন সকলের নজর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, যা এই জটিলতা দ্রুত নিরসন করতে পারে কিনা তা নির্ধারণ করবে।