উত্তরপত্র না দেখানোর জেরে সহপাঠীর ঘুসিতে পরীক্ষার্থী হাসপাতালে
উত্তরপত্র না দেখানোর জেরে সহপাঠীর ঘুসিতে আহত পরীক্ষার্থী

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় চলমান এসএসসি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীকে উত্তরপত্র দেখাতে না দেওয়ায় সহপাঠী মারধর ও চোখে ঘুসি মেরে গুরুতর আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত মো. মাহফুজ সাদি (১৭) বর্তমানে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার বিবরণ

রোববার (১০ মে) দুপুর ১টার দিকে ভাণ্ডারিয়া বন্দর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা চলাকালে মাহফুজ সাদি পরীক্ষা দিচ্ছিল। এ সময় তার সহপাঠী সাকিব তাকে নিজের উত্তরপত্র দেখানোর জন্য চাপ দেয়। মাহফুজ অস্বীকৃতি জানালে সাকিব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের ভেতরেই সাকিব মাহফুজের ওপর চড়াও হয় এবং সজোরে তার ডান চোখে ঘুসি মারে।

আহতের অবস্থা

মাহফুজের আর্তচিৎকারে কক্ষের পরিদর্শক ও অন্যান্য শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল মাওয়া জানান, মাহফুজের ডান চোখে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চোখের ভেতরে কোনো ইন্টারনাল ফ্র্যাকচার আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী

আহত মাহফুজ উত্তর পূর্ব ভাণ্ডারিয়া গ্রামের মো. সফিকুল ইসলামের ছেলে। অভিযুক্ত সাকিব (১৭) পূর্ব ভাণ্ডারিয়া গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে। দুজনেই ভাণ্ডারিয়া বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

প্রতিক্রিয়া

আহত মাহফুজের মা আফরিন আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "আমি এ অন্যায়ের বিচার চাই। সামনে আমার ছেলের রসায়ন পরীক্ষা, কিন্তু আঘাতের ব্যথায় ছেলে এখন মাথা তুলতেই পারছে না। এভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতর আমার ছেলের ওপর হামলা হলো কেন, আমি প্রশাসনের কাছে তার জবাব চাই।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেন্দ্র সচিব ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ আজমল হোসেন বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন পরীক্ষার্থীর ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি এবং যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এ ঘটনায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।