প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স, এমবাপ্পের বার্তা ‘কর্মব্যস্ত দিন’
প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে ফ্রান্স। একমাত্র গোলটি করে চলতি টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসির সমান ৭টি গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এমবাপ্পের ‘কর্মব্যস্ত দিন’ বার্তা

ম্যাচ জেতানো এই পারফরম্যান্সের পর ফরাসি অধিনায়ক মাঠের লড়াইকে একটি সাধারণ কর্মদিবসের সঙ্গে তুলনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ম্যাচের কিছু ছবিসহ লিখেছেন, ‘একটি কর্মব্যস্ত দিন’।

ম্যাচের বিবরণ

লিংকন ফিনান্সিয়াল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে ফরাসিবাহিনীর সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। গ্রুপ পর্বে দাপটের সঙ্গে খেললেও শেষ ষোলোতে ফ্রান্সকে প্রতিটি ইঞ্চির জন্য লড়াই করতে হয়েছে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে, যারা আগের রাউন্ডে জার্মানিকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল। বল দখলে এগিয়ে থাকলেও প্যারাগুয়ের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ভাঙতে পারছিল না সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ম্যাচের প্রথমার্ধ এতটাই আক্রমণহীন ছিল যে, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয় ম্যাচ—যেখানে প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল পোস্টে একটিও শট নিতে পারেনি। খেলার মাঝপথে মাঠের উত্তাপ আরও বেড়ে যায় যখন প্যারাগুয়ের আন্দ্রেস কুবাসের এক চ্যালেঞ্জের পর প্রতিক্রিয়া দেখান এমবাপ্পে। এ নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একপর্যায়ে ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পেনাল্টি ও জয়

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় ফ্রান্স। তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘোরে ৬৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় দেজিরে দুয়ে মাঠে নামার পর। প্যারাগুয়ের তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢোকার সময় তাকে ফাউল করেন দিয়েগো গোমেজ। অনফিল্ড রেফারি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি-এর সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা পেনাল্টি শট নিতে দেরি করানোর চেষ্টা করলেও ঠান্ডা মাথায় গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৯তম ম্যাচে ১৯তম গোল।

শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরতে প্যারাগুয়ে মরিয়া হয়ে আক্রমণ করলেও ফ্রান্সের রক্ষণভাগ তা সফলভাবে প্রতিহত করে। এমনকি খেলার অতিরিক্ত সময়ে এমবাপ্পে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেলেও প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল দুর্দান্ত এক ডাবল সেভ করেন। তবে শেষ দিকে গিল মেজাজ হারিয়ে তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক না করায় এমবাপ্পের পিঠ লক্ষ্য করে বল ছুড়ে মারেন।

এমবাপ্পের প্রতিক্রিয়া

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে তাদের ‘কঠিন ফুটবল’ খেলার মানসিকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কেমন হবে। আমরা প্রয়োজনে হাত নোংরা করতেও প্রস্তুত ছিলাম। ওরা হয়তো ভেবেছিল আমরা স্যুট-টাই (টাক্সিডো) পরে খেলতে নামব, কিন্তু আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি ছিলাম।’

এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হবে দিদিয়ে দেশমের শিষ্যরা।