সিংগাইরে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী এক স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তান নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সিংগাইর উপজেলার একটি সড়কে, যেখানে একটি পিকআপভ্যান তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। স্থানীয়রা জানায়, পিকআপভ্যানটি দ্রুতগতিতে আসছিল এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটিকে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলটি সিংগাইর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপভ্যান তাদের ধাক্কা দেয়। ধাক্কাটি এতটাই জোরালো ছিল যে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। নিহতরা হলেন স্বামী মো. রফিকুল ইসলাম (৩৫), তার স্ত্রী আয়েশা বেগম (৩০) এবং তাদের পাঁচ বছরের ছেলে সাব্বির। ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে ততক্ষণে তিনজনই মারা গিয়েছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। তারা জানান, দুর্ঘটনার পর পিকআপভ্যানটি পালিয়ে গেছে। পুলিশ পিকআপভ্যানটি শনাক্তের চেষ্টা করছে।
পরিবারের শোক
নিহত রফিকুল ইসলাম স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। তার স্ত্রী গৃহিণী ছিলেন। তাদের একমাত্র ছেলে সাব্বির স্থানীয় একটি স্কুলে পড়ত। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, রফিকুল খুবই শান্ত ও পরোপকারী মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকার অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পুলিশের তদন্ত
সিংগাইর থানার ওসি জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পিকআপভ্যানটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে তা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তিনি আরও বলেন, দ্রুতগতি ও অসতর্কতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে স্পিড ব্রেকার ও সতর্কতা চিহ্ন বসানোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, এই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।



