স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং সমবায়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ঐক্য, আত্মনির্ভরশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার চেতনা গড়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক সমবায় দিবসের আলোচনা সভা
আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে শনিবার (৪ জুলাই) ১০৪তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে সমবায় অধিদফতরের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। পরে সমবায়ীদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের মেলার স্টল পরিদর্শন করেন।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়
তিনি সমবায় অধিদফতরের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে দায়িত্ব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে জেলা কার্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর করতে উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) প্রণয়ন, কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি, পদোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়, কর-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
গুণগত মান ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব
মীর শাহে আলম বলেন, দেশের সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে সমবায় সমিতির সংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তে বিদ্যমান সমিতিগুলোর গুণগত মান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সমবায়ীদের উৎপাদিত পণ্য আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়ের সমবায় সমিতিগুলো পরিদর্শন করবেন এবং মাঠপর্যায়ের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবেন। সমবায় খাতের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।
সমবায়ের আদর্শ মূল্যায়নের সুযোগ
মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সমবায় খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস কেবল একটি উদযাপনের উপলক্ষ নয়, বরং এটি সমবায়ের আদর্শ, মূল্যবোধ ও অবদানকে নতুন করে মূল্যায়নের এক অনন্য সুযোগ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনে সমবায় একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, সমবায় অধিদফতরের দীর্ঘ পথচলায় গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, নারী ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সমবায় আরও বড় অবদান রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ, স্বল্পসুদে ঋণ, বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে সমবায়কে আরও জনবান্ধব করার আহ্বান জানান।
সমবায় অধিদফতরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. সেলিম ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন– পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, সমবায় অধিদফতরের অতিরিক্ত নিবন্ধক মো. নবীরুল ইসলাম, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সমবায় অধিদফতরের বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সমবায়ীরা।



