জামালপুরে একই ফিলিং স্টেশন থেকে বারবার তেল নেওয়ায় তিন মোটরসাইকেল আরোহীর জরিমানা
জামালপুরের বকশীগঞ্জে একই ফিলিং স্টেশন থেকে কৌশলে বারবার তেল নেওয়ায় তিন মোটরসাইকেল আরোহীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বকশীগঞ্জের ‘পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনে’ পরিচালিত একটি ঝটিকা অভিযানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদ হোসেন।
অভিযানের পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তেলের অপচয় রোধ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, একই গ্রাহকের বারবার তেল নেওয়া নিষিদ্ধ। তবে, ওই তিন মোটরসাইকেল আরোহী কৌশল অবলম্বন করে একই ফিলিং স্টেশন থেকে একাধিকবার তেল সংগ্রহ করছিলেন। তাদের এই কার্যকলাপ প্রশাসনের নজরে আসার পরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা নিম্নরূপ:
- আসাদুজ্জামান (২৫), শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া এলাকার বাসিন্দা, যিনি খোরশেদ আলমের ছেলে।
- হাসিবুর রহমান (২৮), জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর এলাকার বাসিন্দা, যিনি হাবিবুর রহমানের ছেলে।
- সুমন (২৫), জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা, যিনি শুকুর আলীর ছেলে।
এদের মধ্যে সুমনকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অন্যদিকে আসাদুজ্জামান ও হাসিবুর রহমানকে প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
প্রশাসনের সতর্কবার্তা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মুরাদ হোসেন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যারা তেলের বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফিলিং স্টেশনগুলোতে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান এবং কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে, যাতে তেলের অপচয় রোধ ও বাজার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যায়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা অভিযানের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনা তেলের অপচয় রোধে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের সক্রিয় ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



