সংসদে এলজিআরডি মন্ত্রীর অভিযোগ: ফ্যাসিবাদী শাসনে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি
ফ্যাসিবাদী শাসনে উন্নয়নের নামে দুর্নীতি: এলজিআরডি মন্ত্রী

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে উন্নয়নের নামে দুর্নীতির তীব্র অভিযোগ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রবিবার সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, আগের ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামলে মেগা প্রকল্প বা উন্নয়নের নামে ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের (রংপুর-৪) একটি পরিপূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মর্মপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

সরকার গঠনের এক মাস পরই দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট

মন্ত্রী আলমগীর সংসদে বলেন, “এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে মেগা প্রকল্প বা উন্নয়নের নামে চরম দুর্নীতি হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় আসার এক মাস পরই এই বাস্তবতা আমাদের উপলব্ধিতে এসেছে।” তাঁর এই বক্তব্য সংসদ কক্ষে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি আরও যোগ করেন যে, এমনকি অতীতের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাও সরকারি তহবিল নিজেদের এলাকায় নিয়ে গেছেন, অথচ উত্তরাঞ্চলের সড়ক ও রাস্তা সম্পূর্ণরূপে অবহেলিত থেকে গেছে।

গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে নতুন অঙ্গীকার

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনগুলোতে আমরা কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করব না এবং গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব।” তাঁর এই অঙ্গীকার সংসদ সদস্যদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যের উদ্বেগ ও প্রশ্ন

সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তাঁর প্রশ্নে উল্লেখ করেন যে, সরকার মেগা প্রকল্পে মনোযোগ দিলেও গ্রামীণ সড়ক ব্যবস্থা উপেক্ষিত হওয়ায় গ্রামীণ জনগণ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, বর্তমান সরকার কি সড়ক উন্নয়নের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী উত্তর দেন যে, পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো যথাযথভাবে উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি।

দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সতর্ক বার্তা

বিরোধী দলীয় জামায়াত নেতা মোঃ আবদুল আলীমের (বাগেরহাট-৪) আরেকটি পরিপূরক প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, “গ্রামীণ সড়কগুলো উল্লেখযোগ্য হারে উন্নয়ন করা যায়নি, কারণ পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি চরমে পৌঁছেছিল।” তিনি স্বীকার করেন যে, অনেক গ্রামীণ সড়ক এখনও কাঁচা অবস্থায় রয়েছে, তবে সরকার ইতিমধ্যে সেগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রী ফখরুল ইসলাম দৃঢ়ভাবে জানান, “আমরা ধাপে ধাপে মাটির রাস্তাগুলো পাকা করার পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। সংসদে তাঁর এই উদ্বোধনী বক্তব্য দেশের উন্নয়ন নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অগ্রাধিকার পাবে। সরকারের এই পদক্ষেপ গ্রামীণ জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।